নারায়ণগঞ্জ সদর বিশেষ সংবাদ সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

হাজীদের সাথে প্রতারণা, করতোয়া এজেন্সীর পরিচালক বাতেন আটক !

হাজীদের সাথে প্রতারণা, করতোয়া এজেন্সী’র পরিচালক বাতেন আটক !হাজীদের সাথে প্রতারণা, করতোয়া এজেন্সী’র পরিচালক বাতেন আটক !
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( বিশেষ প্রতিবেদক ) : অবশেষে করতোয়া এজেন্সীর পরিচালক হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মনকে আটক করেছে নরায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হজ্ব গমনকারী মো. হায়দার আলীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে হাবিবুর রহমান বাতেন ও তার সহযোগী আমির হোসনে কে আটক করা হয়। এছাড়াও করতোয়া এজেন্সীর পরিচালক হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মনের বিরুদ্ধে হাজীদেরকে হয়রানী ও প্রতারণা করার বিস্তর অভিযোগ জানিয়েছে ফিরে আসা হজ্ব যাত্রীরা।

তবে ভুক্তভোগী হাজী মো. হায়দার আলীর অভিযোগের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে নরায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ওসি আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, করতোয়া এজেন্সীর পরিচালক হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মনকে আমরা থানায় রেখেছি জিজ্ঞাসবাদ করছি। ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। এ রিপোর্টটি লিখা পর্যন্ত সর্বশেষ ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাজীদের সাথে বাতেন এর লোক কথা বলছে। এখনো কোন সমাধান হয়নি।

এদিকে হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মনকে আটক করার পর থানার সামনে ভুক্তভোগী হাজীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এসময় হাজীরা অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং প্রতারক বাতেনের কঠোর শাস্তি দাবী সহ হাজীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত চায় তারা।

এ ব্যপারে করতোয়া ট্রাভেলস ইন্টারন্যশনাল এজেন্সীর পরিচালক হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভুক্তভোগী হাজী মো. হায়দার আলী জানায়, হাবিবুর রহমান বাতেন সায়মন আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আমি সহ সকল হাজীরা তার বিচার চাই। এবং আমাদের ক্ষতিপূরণ চাই। হজ্বে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমাদের কাছে টাকা হাতিয়ে নিলেও সে আমাদের সেখানে এক প্রকার নির্যাতন করেছে। অনেক কষ্ট করে দেশে ফিরে এসেছি। আমরা ঠিকমত খাবার পাইনি। আমাদের এমন এক স্থানে নামিয়েছে যেখান থেকে মাইলকে মাইল পথ পারি দিয়ে মদিনায় আসতে হত। আমরা বিষয়টি সদর থানা ওসিকে জানালে তিনি অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সে মতে অভিযোগ দেই পরে বাতেন কে আটক করে রাখা হয়।

ভুক্তভোগী আরেক হাজী মো. মহিউদ্দিন জানায়, আমাদেরকে যে কয়দিন খাবার দিয়েছে তাও পচাঁ, বাসি। আমরা আল্লাহর ঘরে হজ্ব করতে গিয়েছি। সেখানে গিয়ে মিনার কার্ড দেয়া হয়নি। মক্কা-মদিনায় যাওয়া আসা, থাকা-খাওয়া সকল ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা ছিল। এছাড়াও কথা ছিল ৪৫ দিন আমাদের রাখা হবে। ৩০ দিন রাখা হয়। র্কতৃপক্ষ হিসেবে বাতেন কোন দায়ভার ই নেইনি। বরং আমাদেরকে সেখানে নিয়ে গরু-ছাগলের মত বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। অন্য হজ্ব এজেন্সির কাছে। আমাদের এত নি¤œমানের খাবার দিয়েছে যা কুকুরও খায় না। খাবার বাবদ প্রতিজন সরকারী হিসেবে ২৭ হাজার টাকা করে দিয়েছি। কিন্তু ১০০ টাকার খাবারও দেইনি। নিজের টাকায় কিনে খেয়েছি। ২০ জন মহীলা ছিল। একজন অসুস্থ হয়ে খোনে ভর্তিও ছিল। আমাদের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একপর্যায়ে তার পাঠানো কর্মচারী আমির হোসেন সে পালিয়ে যায়। আমরা হাজীরা উপায় না দেখে বাংলাদেশ হজ্ব মিশন মক্কায় করতোয়া এজেন্সী ও বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি। আমরা টাকা দিয়ে গিয়েও সৌদি সরকারের সহযোগীতায় দানের টাকায় থাকতে হয়েছে। মদিনায় গিয়েছি তাদের ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় চারদিন থেকেছি। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। এখন বাতেন ও তার সহযোগী আমির হোসেন আটক আছে।

তাদের অভিযোগে আরো জানা গেছে, সৌদিতে এসব হজ্ব যাত্রীরা অনেকেই সময়মত খাবার পায়নি। নিজ র্অথ ব্যয় করে হলেও তারা জানেনা কিভাবে মদিনায় যাবে। কোথায় কি খাবার পাবে। কিভাবেই বা চলে আসবে। বিশেষ করে যারা নতুন গিয়েছে তারা পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছিল। নানা সুযোগ সুবিধার কথা বলে করতোয়া ট্রাভেলস লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও যাত্রীরা পায়নি তাদের নুন্যতম সেবা। তিনবেলা খাওয়া, হারাম শরীফের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। হজ্বের স্থানে পা হেটেই নামাজ পড়তে পারবে এমন দুরুত্বে রাখার কথা। তবে এর কোন কিছুই ঠিক রাখেননি এজেন্সি কর্তৃপক্ষ। বরং বাস পরিবহন দিয়ে কাকিয়া নামক একটি এলাকায় যাত্রীদের নামিয়ে চলে যায় করতোয়ার কর্তৃপক্ষ। যেখান থেকে হেটে আসতে দুরত্ব র্দীঘ ১২ কিলোমিটার।

জানা গেছে, ১লা আগস্ট করতোয়া ট্রাভেলস এর মাধ্যমে বিমানযোগে সৌদিতে পবিত্র হজ্ব পালনে যান ৫১ জন যাত্রী। এরমধ্যে ৪৫ জন যাত্রীর কাছ থেকে ত্রিশ দিনের জন্য এই সৌদি গমনে নেয়া হয়েছে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আর বাকি ৬ জনের কাছে জন প্রতি নেয়া হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। যাদের প্রত্যেকেই সেখানে চরম ভোগান্তিতে ছিল। এরমধ্যে আগেই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে তিন জন রির্টাণ টিকিট কেটে চলেও আসে। তাছাড়াও হজ্ব যাত্রীদের অনেকেই না খেয়ে অসহায় সময় পার করছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছে নিজ টাকায় দেশে ফেরত আসা হজ্ব যাত্রী।

এরআগে দেশে বিভিন্ন অনিয়মের পর সৌদি আরবে গিয়েও নানা রকম প্রতারণামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে বেসরকারি হজ্ব এজেন্সিগুলো। এজন্য মক্কা হজ্ব মিশনের ভুক্তভোগী হাজীরা লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে। হজ্ব ব্যবস্থাপনায় ৭৯টি বেসরকারি হজ্ব এজেন্সির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে মক্কা হজ মিশনে মোট ১০৭টি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হাজীরা। সে অভিযুক্ত হজ্ব এজেন্সিগুলোর তালিকায়ও করতোয়া ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল এর নাম রয়েছে। বিগত সময় এ নিয়ে ব্যপক আলোচনা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। তারপরেও এই অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, প্রতারণা ও হজ্ব যাত্রীদের হয়রানী করা থেকে বিরত হচ্ছে না করতোয়া ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল।

About the author

SOFT PRO IT