নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি ) : সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রনে নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের বাড়িতে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে সাত খুনের ঘটনার পূর্বের ন্যায়, প্রতি বাস কাউন্টার থেকে কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলকে দৈনিক হারে চাঁদা দিতে হবে। বৈঠকে শিমরাইল মোড় আন্তঃ জেলা বাস কাউন্টার মালিক সমিতির সভাপতি এস এম আজিজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম শিপনসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাত খুন ঘটনার পূর্বে শিমরাইল মোড়ের প্রতিটি আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার থেকে দৈনিক ৫০০ টাকা হারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলকে চাঁদা দিতে হতো। কোন বাস কাউন্টার মালিক চাঁদা দিতে অস্কৃতি জানালে তাকে কাউন্সিলর বাদল বাহিনী তুলে নিয়ে মারধর করতো। কোন বাস কাউন্টার বন্ধ বা যাত্রী না পেলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা না দিলে কাউন্সিলর বাদল বাহিনীর ক্যাডার এসে বাস কাউন্টার বন্ধ করে দিতো বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাউন্টার মালিক সমিতির নেতারা।
বাস কাউন্টার মালিক সমিতি সূত্র জানায়, শিমরাইল মোড়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন পরিবহনের প্রায় শতাধিক বাস কাউন্টার রয়েছে। ঐ সকল প্রতিটি কাউন্টার থেকে দৈনিক ৫০০ হারে চাঁদা আদায় করতো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। সাত খুনের ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল পালিয়ে গেলে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। পরে চাঁদাবাজি বন্ধে শিমরাইল মোড় বাস কাউন্টার মালিক সমিতি গঠন করা হয়। ঐ কমিটিতে এস এম আজিজুল হককে সভাপতি ও মাহবুব আলম শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৫ আগস্ট শুক্রবার ঐ কমিটির নেতাকর্মীদের ডেকে পাঠান সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। পরে ঐ বৈঠকে কিভাবে বাস কাউন্টার নিয়ন্ত্রন ও চাঁদা আদায় করা যায় সে লক্ষ্যে তাদের সাথে আলোচনা হয় বলে সূত্রটি জানায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল জানান, আসছে নাসিক নির্বাচন নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। এর বেশী কিছু না। তবে ঐ বাস কাউন্টারের মালিক এবং কর্মচারী অধিকাংশই ৩নং ওয়ার্ড এলাকার ভোটার নন বলে সূত্রটি আরো জানায়।

