নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পিতার সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। এমনকি পিতার জীবদ্দশায় ফুসলিয়ে অধিকাংশ সম্পত্তি বিক্রয় করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলাটির বিশনন্দি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুজ্জামান সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী মোসা. রেখা জামান। এমন অভিযোগ প্রথম স্ত্রী হেলেনা বেগমের দুই সন্তানের।
এ বিষয়ে মরহুম সামছুজ্জামান সরকারের বড় সন্তান মোজাহিদ সরকার জানায়, চলতি বছরের ৬ মার্চ আমার বাবা ইন্তেকাল করেন। তখনও জানানো হয়নি যে আমার বাবা সম্পত্তি কাউকে লিখে দিয়েছে। তাছাড়া যদি এতো বছর আগে লিখেই দিয়ে যেত তাহলে কেন জানানো হলো না। অথচ তারা দাবি করেন ওই জমি তাদের নামে রেজিস্ট্রিও করে ফেলেছে। কোনো ঘোষণা ছাড়া কিভাবে হেবা করলো সেটাই আমার বোধগাম্য হয় না। এরআগেও বিভিন্ন সম্পত্তি আমার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। যেহেতু আমরা ওয়ারিশ, আমাদের দাবি, আমাদের পিতার সম্পত্তি সমহারে বন্টন করা হলে কোন আপত্তি থাকবে না।
এদিকে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টায় ইউনিয়ন মেম্বার আব্দুর রহীমকে জানানো হলে তিনি বৈঠকের কথা জানান। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পরবর্তিতে সে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে। সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে দেখা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে জানিয়েছেন, রেখা জামানকে বসার জন্য বলেছিলাম তারা বসতে রাজি নয়। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
পরে এ বিষয়টির জন্য থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মোজাহিদ সরকার। এ ব্যপারে আড়াইহাজার থানা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান, তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সত্যতা যাচাই করতে রেখা জামানের বসত ঘরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে তিনি জানায় ২০০৮ সালেই তার নামে সম্পত্তি লিখে দিয়েছে স্বামী সামছুজ্জামান। তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। যে কারণে এসকল বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য জানা যায় নি।
অন্যদিকে সামছুজ্জামান সরকারের মৃত্যুর আগে জমি লিখে দেয়ার বিষয়টি জানেন না সমাজ প্রধান ও আপন ভাইরা। এমনটাই জানালেন তারা। তবে চান সুষ্ঠু সমাধান।
বর্তমান সমাজ প্রধান ও মরহুম সামছুজ্জামানের ছোট ভাই আলাউদ্দিন সরকার জানিয়েছেন, আমার ভাতিজারা আসেনি তাই এ ব্যপারে কিছু করা হয়নি। শুনেছি ভাই মারা যাওয়ার পর নাকি সব সম্পত্তির মালিক তার স্ত্রী রেখা। তার স্বামী নাকি আগেই তাকে লিখে দিয়ে গেছে। কিন্তু ভাইয়ের সকল সন্তানরাই তো আমার ভাতিজা ভাতিজি। সবাই মিলে মিশে থাকুক এটাই চাই।
ছোট ভাই হাজী খোকন জানান, যেহেতু দুটি স্ত্রী উচিৎ ছিল সকল ওয়ারিশদেরই নিয়ম অনুযায়ী বন্টন করে দেয়া। এখন বড় ভাই কেন করেনি তা তো জানিনা। আগেও জানতাম না। কখনও বড় ভাই এ বিষয়ে বলেনি, যে জমি কাউকে লিখে দিয়েছিল। এখন জানতে পারলাম। তবে বঞ্চিত করাটা ঠিক হয়নি।
আরেক ছোট ভাই জুলহাস সরকার জানান, কাউকে বঞ্চিত করাটা ঠিক না। আমার ভাই যে জমিটা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে লিখে দিলো এ বিষয়টি এতো বছর লুকিয়ে রাখার কারনটাও তো রহস্য জনক হয়ে গেছে। লিখে দিলে তো ভালো। আগে জানিয়ে দিলেই ভালো হতো। তাহলে এখন আর এতো সমস্যা হতো না। তারপরেও চাই উভয়কে নিয়ে যেন সমাধান করা হয়।



