নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( রূপগঞ্জ প্রতিনিধি ) : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে স্পর্শকারত অংশে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী করেছে শিক্ষক। পাশাপাশি গোপনে ঘটনার ছবিও ধারন করে সে। দির্ঘদিন পর সেই তোলা ছবি দিয়ে শিক্ষার্থীকে হয়রানী করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এ ঘটনায় উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেই শিক্ষার্থী।
২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ অভিভুাবকগন। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দাউদপুর পুটিনা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, গেলমে মাসে দাউদপুর পুটিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালিন শিক্ষক জাকির হোসেনের কাছে দশম শ্রেণীর ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে গেলে একা পেয়ে তাকে জাপটে ধরে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকারত অংশে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় শিক্ষক জাকির। এমনকি মোবাইলে ছবি তুলে রাখে শিক্ষক। এ ঘটনা ছাত্রী সাথে সাথে বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা মুনমুন বেগমকে জানালে এ ব্যাপারে তাকে বাড়াবাড়ি না করতেবলেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার শিক্ষক জাকির হোসেন ছাত্রীর সহপাঠী শাহআলমের মাধ্যমে মোবাইলে তোলা সেই ছবি দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। অন্যথায় ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ছড়িয়ে দেয়ায় হুমকি দেয়। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে তারা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ও অন্যান্য শিক্ষকদের পরামর্শে গত বুধবার রূপগঞ্জ থানায় শিক্ষক জাকির হোসেন ও শাহ আলমকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই গা ঢাকা দেয় লম্পট শিক্ষক জাকির ও সহপাঠী শাহ আলম। এদিকে শনিবার সকাল ১০ টায় স্থাণীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষক তার সহযোগীকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এটিএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম, মুকুল পাশা, সাইফুল ইসলাম, রুমা আক্তার, আমিন রানা, সোহেল রানা, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিদ্যালয়ের অর্ধ সহস্রাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এসময় তারা অভিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দাবি তুলেন।
এ ব্যাপারে দাউদপুর পুটিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামান মিয়াবলেন, মামলা হবার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসছেন না। এ কারনে আমরা এখনো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা রূপগঞ্জের সাংসদ এবং মাননীয় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) এর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন, সে সিদ্ধান্তই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করা হবে।