নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডন নিতে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, সেটি ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার অনুমতি পেয়েছে। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন কর্মকর্তা রোববার এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জার্মানভিত্তিক এয়ারলাইন্স এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপ শনিবার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যে আবেদন করেছিল তাতে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ। ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সকে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নামার সূচি দেওয়ার তথ্য দেন তিনি। সেটি চাইলে সেদিন রাত ৯টায় ঢাকা ত্যাগ করতে পারবে, সেভাবে আপাতত সময় দেওয়া হয়েছে বলে তুলে ধরেন ওই কর্মকর্তা।
এর আগে শনিবার এফএআই অ্যাভিয়েশন গ্রুপ যে আবেদন করেছিল তাতে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরের দিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সূচি চাওয়া হয়েছিল। তবে এ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসা ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে লন্ডনের পথে রওনা হওয়ার পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার সবশেষ শারীরিক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার ভোরের দিকে লন্ডনের পথে রওনা হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল দলের তরফে। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেই অ্যাম্বুলেন্স আসতে বিলম্ব হওয়ার কথা জানায় দলটি।
এরপর শুক্রবার বলা হয়, কাতার আমিরের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আর আসছে না। সেটির বদলে কাতারের আমির জার্মানি থেকে ভাড়া করে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবেন। সেই অ্যাম্বুলেন্স কবে আসবে কিংবা খালেদা জিয়াকে কবে লন্ডনে নেওয়া হবে, তা বিএনপির তরফে এখনও জানানো হয়নি।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তরফে শনিবার বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো বিমানযাত্রার সক্ষমতা অর্জন করেননি। সেজন্যই তার লন্ডনযাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। তবে খালেদা জিয়া ৯-১০ ডিসেম্বরের দিকে সেই সক্ষমতা ‘অর্জন করতেও পারেন’ বলে এদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আভাস দেন এক চিকিৎসক। সেই আভাসের মধ্যে এবার ৯ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির ঢাকায় আসার আবেদনের খবর এল।
ঢাকায় কাতার দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির নুরেমবার্গভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের’ কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি। এটি বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার (সিএল- ৬০) সিরিজের দুই ইঞ্জিনের জেট উড়োজাহাজ। এতে অ্যাম্বুলেন্সের যাবতীয় সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। সিরিয়াল নম্বর বলছে, উড়োজাহাজটি প্রস্তুতকারক কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ২০১৮ সালে।
ইউরোপের বিজনেস জেট, ভিআইপি চার্টার উড়োজাহাজ ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী কোম্পানি এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভেন্টিলেটর, মনিটরিং ইউনিট, ইনফিউশন পাম্প, অক্সিজেন সরবরাহ, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসা সামগ্রীসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। উড়োজাহাজটিতে থাকবেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস, যারা আকাশপথে নেওয়া রোগীদের নিবিড় পরিচর্যার বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখেন। এর আগে গেল জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেবার তিনি গিয়েছিলেন কাতারের আমিরের ব্যক্তিগত বহরের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।
খালেদার লন্ডনযাত্রা: মঙ্গলবার ঢাকায় আসার সূচি চেয়েছে জার্মান এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে খালেদার জন্য বিমানযাত্রার উপযুক্ত না হওয়ায় খালেদার লন্ডনযাত্রায় দেরি: জাহিদ।
সূত্র : বিডি নিউজ।



