নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সদর সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

জিসা মনিকাণ্ড : নৌকার মাঝি খলিলের জামিন, আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর

জিসা মনিকাণ্ড : নৌকার মাঝি খলিলের জামিন, আব্দুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( নিজস্ব সংবাদ দাতা ) : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর পুলিশের খাতায় মৃতের তালিকায় নাম লেখা কিশোরী পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী জিসা মনি হত্যার দেড়মাস পর জীবিত হয়ে ফিরে আসার ঘটনায় ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়া নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ২রা বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। গত সেপ্টেম্বর জামিন আবেদন করেন।

বুধবার শুনানির পর আদেশ দেন আদালত। খলিলুর রহমানের আইনজীবী আবদুল লতিফ মিঞা তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে একই মামলায় ধর্ষণের পর হত্যার মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়া জিসা মনির কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আব্দুল্লাহর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রোকন উদ্দিন জানান, বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আবদুল্লাহর জামিন নামঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্ট শ্রমিক জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিসা মনি গত ৪ঠা জুলাই নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ই আগস্ট জিসা মনির বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এই মামলায় ৭ই আগস্ট পুলিশ গ্রেফতার করে জিসা মনির কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল অটো চালক রকিবকে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন তিনজনকে রিমান্ডে নেয়। এবং আসামিদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় রিমান্ডে মারবে না এই শর্তে। কিন্তু টাকা নিয়ে এসআই শামীম অমানুষিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে জিসা মনিকে ধর্ষণ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। কিন্তু ২৩শে আগস্ট ৫০ দিন পর সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জিসা মনি জীবিত ফিরে আসে। এতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় সর্বত্র। তোলপাড় চলছে প্রশাসনে।

এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে জেলা পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গ্রেপ্তারকৃত তিন জনের স্বজনদের অভিযোগ রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ পিটিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। তারা আরো বলেন, তিন আসামির স্বজনদের কাছ থেকে পুলিশ দফায় দফায় ৪৭ হাজার টাকা নেয় এই শর্তে। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তদন্তস্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।

ওই মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব নৌকার মাঝি খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগস্ট তারা আদালতে জবানবন্দিতে অপহরণ, ধর্ষণ হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার দায় স্বীকার করেন।

ওই ঘটনার ১৪ দিন পর গত ২৩ আগস্ট ওই কিশোরী জীবিত ফিরে আসে এবং সে জানায় যে ইকবাল নামের এক যুবককে বিয়ে করে বন্দর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে সংসার করছিল। এর পরই পুলিশের রিমান্ড তদন্ত নিয়ে মিথ্যাচারের বিষয়টি সামনে আসে, যা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

About the author

SOFT PRO IT