নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : নারায়ণগঞ্জে ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তাকে আহবায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইন মেরামতের কাজ করা অবস্থায় দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনা সংক্রমণের কারণে গত পাঁচ ছয় মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ লোকাল রেলরুটের রেললাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। সেগুলো মেরামতের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছিল।
এর আগে সকাল ১১ : ৪০ মিনিটে রাজধানীর কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ২২২ নম্বরের যাত্রীবাহী ট্রেনটি দুপুরে চাষাঢ়া স্টেশনে যাত্রী নামিয়ে নারায়ণগঞ্জ মূল স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শহরের দুই নম্বর রেলক্রসিং এলাকা অতিক্রম করার পর পেছনের ৪টি বগির বাম পাশের একটি করে চাকা রেললাইনের মাঝখানে পড়লে বিকট শব্দে ট্রেনটি থেমে যায়। এ সময় ট্রেনটি একদিকে হেলে পড়লে যাত্রীরা আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে নেমে পড়েন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, রেললাইনের কাজ চলা অবস্থায় এমন দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য চালককেই দায়ী করছেন তারা।
এই ঘটনার পর থেকে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেলরুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ট্রেনলাইন সচল করতে রেলওয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারাসহ ঢাকা থেকে আসা অর্ধশতাধিক সদস্যের উদ্ধারকারী দল বিকাল ৪ টা থেকে কাজ শুরু করেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো: আমিনুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইনচ্যুত বগিগুলো সচল করে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রেল রুটে একটি ডেমুসহ তিনটি লোকাল ট্রেন প্রতিদিন ১৪ বার করে ২৮ বার আসা যাওয়া করে। একেকটি ট্রেনে প্রতিবার প্রায় দুই হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করেন। সারাদিনে চলাচল করেন প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী।