নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত পুলিশের খাতায় মৃতের তালিকায় নাম লেখা নারী হত্যার দেড়মাস পর জীবিত হয়ে ফিরে আসা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী জিসা মনি অপহরন, ধর্ষণ, হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামীর জামিন এবং এক আসামীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত ৷
আজ ৩১ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আলমের আদালতে রিমান্ড ও জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ৷ শুনানি শেষে আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন৷ তবে তিন আসামির দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করে নথিভুক্ত করেছেন আদালত৷
জিসা মনির কথিত স্বামী ইকবালের রিমান্ড না মঞ্জুর করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন। একইসাথে পূর্ববর্তী ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি আসামীরা প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তাব দিলে, আদালত তা মঞ্জুর করে নথিভুক্ত করার জন্য আদেশ দিয়েছে।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. রোকন উদ্দিন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি আব্দুল্লাহ ও রকিবের জামিন আবেদন করা হয়৷ পাশাপাশি পুলিশ জিসা মনির স্বামী ইকবাল পন্ডিতের রিমান্ড আবেদন করে৷ শুনানি শেষে আদলত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করেন৷ তিনি বলেন, আমরা তিন আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি ৷ আদালত তা গ্রহণ করে নথিভুক্ত করেছেন ৷ আগামীতে আমরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের জামিন আবেদন করবো৷
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্ট শ্রমিক জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিসা মনি গত ৪ঠা জুলাই নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ই আগস্ট জিসা মনির বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এই মামলায় ৭ই আগস্ট পুলিশ গ্রেফতার করে জিসা মনির কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল ও অটোচালক রকিবকে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন তিনজনকে রিমান্ডে নেয়। এবং আসামিদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় রিমান্ডে মারবে না এই শর্তে। কিন্তু টাকা নিয়ে এসআই শামীম অমানুষিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে জিসা মনিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। কিন্তু ২৩শে আগস্ট ৫০ দিন পর সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জিসা মনি জীবিত ফিরে আসে। এতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় সর্বত্র। তোলপাড় চলছে প্রশাসনে।
এছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে জেলা পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গ্রেপ্তারকৃত তিন জনের স্বজনদের অভিযোগ রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ পিটিয়ে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। তারা আরো বলেন, তিন আসামির স্বজনদের কাছ থেকে পুলিশ দফায় দফায় ৪৭ হাজার টাকা নেয় এই শর্তে। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তদন্তস্বার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।