সাবেক সেনাকে হত্যার চেষ্টা, ডিবির হাতে ধরা কিশোর গ্যাং

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে যশোর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি রুপন কুমার সরকার এর দিক নির্দেশনায় ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এসআই আমিরুল ইসলাম, এএসআই গৌরাঙ্গ, আমিরুলসহ একটি চৌকশ টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পযালোচনা করে অপরাধীকে সনাক্ত পূর্বক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০শে এপ্রিল রবিবার বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত যশোর শহরের কাজীপাড়া, পালবাড়ীসহ ঝিনাইদাহ জেলার কালীগঞ্জ বারোবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত আসামদের কাছ থেকে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ও একটি চাকু এমএম কলেজের পুরাতন ছাত্রাবাস চত্বর থেকে উদ্ধার করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন : যশোর পালবাড়ি নতুন খয়ের তলা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২১), যশোর পুলিশ লাইন্স টালিখোলা এলাকার মৃত বাবু হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (১৯), যশোর পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে আবির হোসেন (২০), যশোর মিশন পাড়া এলাকার মুন্না ইসলামের ছেলে মো. রুস্তম আলী (২২), যশোর পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার মৃত্যু জুলফিকার আলীর জুয়েলের ছেলে মো. রাফাত ইয়ামিন (২২) (সেবা সংঘ স্কুলের পিছনে), যশোর পুরাতন কসবা কাজীপাড়া বেগম মিলের সামনে আবুল হোসেনের ছেলে সজীব হোসেন (২০)।

এরআগে গত ৮ই এপ্রিল শুক্রবার রাত ৯ টায় যশোর পালবাড়ী তেতুলতলা মোড়স্থ মাহী ট্রেডার্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্পোরাল আনোয়ার হোসেনকে দোকানের মধ্যে বসা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক যুবক হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে চাকু মেরে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। আহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পরে যশোর সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই দিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ১০ই এপ্রিল রবিবার যশোর কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাত নামে একটি মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশ প্রদান করলে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি রুপন কুমার সরকার, পিপিএম এর দিক-নির্দেশনায় ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম এর নেতৃত্বে এসআই আমিরুল ইসলাম, এএসআই গৌরাঙ্গ, আমিরুলসহ একটি চৌকশ টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পযালোচনা করে অপরাধীকে সনাক্ত পূর্বক গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১০শে এপ্রিল রবিবার বিকাল থেকে রাত ১২ টা পযন্ত যশোর শহরের কাজীপাড়া, পালবাড়ীসহ কালীগঞ্জের বারোবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত ভাড়াটে চাকুমারা পার্টির ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে ঘটনায় ব্যবহৃত চাকু এমএম কলেজের পুরাতন ছাত্রাবাস চত্বর থেকে উদ্ধার করেন।

যশোর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে সাবেক সেনা সদস্য ও যশোর পালবাড়ী তেতুলতলা মোড়ে অবস্থিত মাহী ট্রেডার্সের মালিক কর্পোরাল আনোয়ার হোসেনকে দোকানের মধ্যে বসা অবস্থায় তার পেটে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা চাকু মেরে পালিয়ে যায়। এ সময় আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসা হয়ে সুস্থ হওয়ার পর ১০ই এপ্রিল রবিবার যশোর কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাত নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় যশোর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে যশোরের পুলিশ সুপার মামলাটির তদন্ত ভার দেন। একপর্যায়ে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল রোববার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের শনাক্ত করে। এরপর যশোর পালবাড়ি, কাজীপাড়া ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে আটক করে। আটককৃতরা সবাই যশোরের চিহ্নিত কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য।

এদিকে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে নগদ ২০ হাজার টাকা গ্রহণে অব: সেনা কর্পোরাল আনোয়ার হোসেনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বসা অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে। মূল পরিকল্পনাকারী কামরুল ও শফিকুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

add-content

আরও খবর

পঠিত