নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা বিশেষ সংবাদ রাজনীতি সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয়তা নয় ক্ষমতার দাপটে চেয়ারম্যান হতে মরিয়া আসাদুজ্জামান

Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : বের হতে শুরু করেছে আওয়ামীলীগ নেতা এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যপ্রার্থী আসাদুজ্জামানের অপকর্মের হালখাতা। ধর্ষন, চাঁদাবাজি, ঝুট সন্ত্রাস, ভূমিদস্যুতাসহ নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এখন এনায়েতনগরবাসীর মুখে মুখে। এমনকি অনুষ্ঠিততব্য এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য সাধারন ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট কেনার জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তার এজেন্ড নিযোগের অভিযোগও উঠেছে। ফলে এনায়েতনগর ইউনিয়নবাসী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামান জনপ্রিয়তা নয় বরং ক্ষমতার দাপটে চেয়ারম্যান হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যেই লাম্পট্যের খেতাব পাওয়া চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামান চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই এলাকায় যেভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে আর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে সে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন সাধারন জনগন তার কাছ থেকে কতটুকু সুবিধা পাবে তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামানকে ক্ষমতাসীনদল থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয়। প্রার্থীতা ঘোষনা করার পর থেকেই আচরন বিধি লংঘন করে বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগ এবং সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেই তার বিতর্কিত গনসংযোগে বিতর্কিত ব্যাক্তিদের নিয়ে করার ফলে স্থাণীয় এনায়েতনগরবাসীর মধ্যে ইতিমধ্যেই তার অতীত এবং বর্তমান কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে সাধারন ভোটারদের মাঝে। এছাড়াওতো রয়েছে তার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যূতা, ঝুট সন্ত্রাস এবং নারী কেলেংকারীর অভিযোগ। সবকিছুকে ড্যমেকেয়ার করেই সে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানপদে নির্বাচন করছে। আর এটার একমাত্র কারন হচ্ছে সে ক্ষমতাসীনদলের প্রভাবশালীদের সু-নজরে রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার আঃরশিদ মিঞা জানান, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেযারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কমিশনে একাধিক অভিযোগ পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে নির্বাচন কমিশনারকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কশিনারের নিয়মনীতি না মানা হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্টু এবং নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সরকারীদলের প্রার্থীও যদি আচরন বিধি লংঘন করেন সুনিদিষ্ট এমন অভিযোগ পেলে তাকেও কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না বলেও সে নিশ্চিত করেন।

সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে উক্ত ইউপির চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামান মিয়া তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এনায়েতনগরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গণসংযোগ করে আসছেন। এ সময় তিনি এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রতিটি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করারও আশ্বাস প্রদান করেন। এমনকি ইউপির বরাদ্দের অর্থ ঘাটতি দেখা দিলেও তার ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে সাধারন মানুষের উন্নয়নের কাজ করে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রতি দেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদে আসাদের এমন প্রচারনায় বিব্রত বোধ করেন এলাকাবাসী। স্থাণীয়রা প্রকাশ্যে না বললেও নিজেদের মধ্যে আলোচনাকালে বলে ফেলেন নির্বাচন দেখে আসাদুজ্জামান এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, নির্বাচনের আগেতো আসাদুজ্জামানকে সাধারন মানুষের পাশে দেখা যায়নি। আর যে সকল মানুষকে তার গণসংযোগকালে সাথে রাখছেন প্রত্যেকেই বিতর্কিত এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে। আর তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তিনি গণসংযোগ করাকালে প্রকাশ্যে নিরীহ সাধারন ভোটাররা কিছু না বললেও ব্যালট বক্্ের তাদের অভিমতের জাগান দিবেন বলেও অভিমত বক্ত করেন।

ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ চটলার মাঠ এলাকায় গিয়ে এক চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায় স্থাণীয় বিভিন্ন বয়সের শ্রেনী পেশার মানুষকে। এ সময় চায়ের দোকানে বসা, আবুল হোসেন, রকমত, নূরে আলম, আলমসহ কয়েকজন। কথার ছলে তাদের মধ্যে একজন বলেই ফেলে চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামান কিভাবে চেয়ারম্যানপদে নির্বাচন করতে দাড়ালো সে তার ঘরের ভোটগুলোই পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এর মধ্যে আরেকজন বলে উঠে, ঐ বেটা থাম তোরা কি জীবনে শুনছিস কোন ধর্ষনকারীকে সচেতন মানুষ ভোট দেয়, তাও আবার উকিল মেয়েকে ধর্ষন। আসাদুজ্জামানতো ৯৬’ নির্বাচনের পর পরই তার উকিল মেয়ে মুন্নিকে কৌশলে ধর্ষন করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঐ ভূক্তভোগী পরিবারকে ময়মনসিংহ পাঠাইয়া দেয়। এমন সময় আরেকজনকে বলতে দেখা যায়, ৯৬’ সালে ধর্মগঞ্জ চতলারমাঠ এলাকার চায়ের দোকানদার কাদিরের শ্যালিকা আলেয়া বেগমকে রাতের আধারে ধর্ষনের চেষ্টা করে আসাদ। আলেয়ার ডাকচিৎকারে বাড়ীওয়ালার স্ত্রী গিরি বেগম এবং তার মেয়ে গুম থেকে উঠে গিয়ে আসাদুজ্জামানকে দেখতে পায়। পরবর্তীতে ঐ রাতেই আলেয়ান বেগমকে মারধর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন আসাদুজ্জামানসহ তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, আসাদুজ্জামান ২০০৭ কিংবা ২০০৮ সালে জেসী নামের অল্প বয়সের এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরী এলাকায় বসবাস করে। এ সময় স্থাণীয় লোকজন অসামাজিক কার্য্যকলাপ করাকালে আটক করে। এক পর্যায়ে আসাদুজ্জামানের পক্ষের এক ব্যাক্তি মোশারফের কাছে জেসীকে বিয়ে দিয়ে কোনভাবে পার পায় আসাদুজ্জামান। এ ছাড়াতো তার যে ইটখোলা রয়েছে, কিংবা অন্যৈর জমিতে ইটখোরা তৈরী করে অবৈধভাবে ইটখোলা চালিয়ে যাচ্ছে। চায়ের দোকানে বসে স্থাণীয়দের আলাপচারিতায় তার অপকর্মগুলো বের হতে শুরু করে। এনায়েতনগর ইউনিয়ন বাসীরা মনে করেন, যোগ্যহীন ব্যাক্তি, লম্পট, ভূমিদস্যু যদি আমাদের এলাকার চেয়ারম্যানপদে নির্বাচন তাহলে গরীব হবে ভিটে ছাড়া আর ঘরের গৃহবধূরা থাকবে আতংকে। আর সুষ্টু নির্বাচন হলে আসাদুজ্জামানের জমাকৃত অর্থ বাজায়াপ্ত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এমন চিন্তার পর স্থাণীয়দের মধ্যে আরো কয়েকজন বলে, ঐ মিয়া শুনেন আসাদুজ্জামান জনগনের ভোটে নয় যদি নির্বাচিত হয় তাহলে প্রভাবের ফলেই হবে। কেননা আসাদুজ্জামান নিজেই জানেন সে নির্বাচনে জয়লাভ করবেন না!

সূত্রে আরো জানা যায়,  ইতিমধ্যে আসাদুজ্জামান এনায়েতনগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সাধারন ভোটারদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের জন্য এজেন্ড নিয়োগ দিয়েছেন। এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নগদ টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয় করার জন্য যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের তালিকার মধ্যে রয়েছে, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কালেরকন্ঠ পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি দিলীপ কুমার মন্ডল, ছাত্রলীগ নেতা মোশারফ হোসেন, শ্রমিক নেতা সাহাবুদ্দিন, লম্বা মজিবর, হাছান, জামানের রক্ষিতা জেসীসহ একাধিক ব্যাক্তি। ইতিমধ্যে এনায়েতনগরের কয়েকটি ওয়ার্ডে সাধারন ভোটারদের অর্থ প্রদান করেছে বলেও উঠেছে অভিযোগ। তবে জামানের অর্থের প্রলোভনের বিষয়ে সাধারন ভোটাররা তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমরা যোগ্য প্রার্থীকেই এনায়েতনগর ইউপির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করবো। চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসাদুজ্জামান সাধারন ভোটারদের মাঝে অর্থ লেনদেন করলেও অনেক ভোটার ভয়তে অর্থ গ্রহন করছে। কেননা আসাদুজ্জামানের প্রেরিত অর্থ না গ্রহন করা হলে সাধারন ভোটারদের মাঝে হামলা আশার আশংকা রয়েছে বিধায় অর্থ গ্রহন করতে বাধ্য হচ্ছে। কেননা, আসাদুজ্জামানের মত একজন দুশ্চরিত্র ব্যাক্তি এ এলাকার চেয়ারম্যানপদে নির্বাচিত হলে  এলাকার মা ও বোনেরা কতটুকু নিরাপদে থাককে তা নিয়েও রয়েছে যাথেষ্ট সন্দেহ।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশনার আঃরশিদ মিঞা জানান, অর্থ লেনদেন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ লিথিকভাবে তার কাছে এখনো কেউ দেয়নি। ভোটারদের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ভোট ক্রয়ের সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করা হতে পারে। তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে সুনিদিষ্ট প্রমান থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি ইউনিয়নে তাদের লোক কাজ করছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যদি ভোটারদের টাকা লেনদেনের বিষয়টি তাদের নির্বাচন কমিশনারের কর্মকর্তাদের নজরে আসে তাহলে তাৎক্ষনিক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্থ করেন।
উক্ত বিষয়ে সত্যতা জানার জন্য এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামানের (মোবাইল নাম্বার-০১৬৭০৭৪৯২৯১)-এ একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তার মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

About the author

SOFT PRO IT

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   7   =