নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : স্বাস্থবিধি মানবো দোকানপাট খুলবো এমন বিভিন্ন স্লোগানকে সামনে রেখে দোকান খুলে দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে নারায়ণগঞ্জের বস্ত্র ব্যবসায়ী ও সকল রেডিমেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ সময় অবিলম্বে দোকান খোলার অনুমতি না দিলে, নিজেরাই নিজেদের মতো করে দোকান খোলা রাখবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে দ্বিতীয় দিন চলাকালে ৬ই এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ দোকান মালিক–শ্রমিকদের সমন্বয়ক আরিফ দিপু বলেন, আজকে যে সময় আমাদের দোকানে কাজ করার কথা, সেখানে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। বিভিন্ন গার্মেন্টস, কল–কারখানায় আর্থিক অনুদান দেওয়া হলেও আমাদের কোনো অনুদান, কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। আমরা আমাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে পারিনি। জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের শ্রমিকদের ভোটার আইডি কার্ড পর্যন্ত আমরা জমা দিয়েছি। কিন্তু আমাদের কোনো সাহায্য করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, দুই দিন পরে যে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হবে তখন যদি দোকান খুলতে দেওয়া না হয়। তখন আমরা নিজ দায়িত্বে সারা দেশে দোকান খুলবো।
এর আগে শহরের চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে তারা সামবেত হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটের দোকান মালিক ও শ্রমিকরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার দাবি জানান দোকান মালিক ও শ্রমিকরা।
মানববন্ধনে দোকান মালিকগণ বলেন, করোনার কারনে প্রায় এক বছর যাবৎ আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন। যা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। করোনার কারনে আমরা দীর্ঘদিন মার্কেট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। পরবর্তীতে মার্কেট খোলা হলেও করোনার কারনে ক্রেতার সংখ্যা ছিলো নিতান্তই কম। এর আগে গত বছর ঈদ এবং পহেলা বৈশাখেও আমাদের ব্যবসা ভালো হয়নি। করোনার কারনে মানুষ ঈদ বাজার তেমন করেনি। কিন্তু দোকান কর্মচারিদেরকে সম্পূর্ণ বেতন–বোনাস, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল সহ সকবিছুই পরিশোধ করতে হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি, ড্রিলিং লাইসেন্স আয়কর ও ভ্যাট প্রদান করতে হয়েছে। কিন্তু সরকার আমাদের কোনো ছাড় দেয়নি, এমনকি সরকার ঘোষিত প্রণোদনা দোকান ব্যবসায়ীরা পায়নি।
এছাড়াও মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পূনরায় একই স্থানে সমাবেশ করে আগামী ২ দিনের আল্টিমেটামে কঠোর কর্মসূচী দেয়ার ঘোষনা দিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি করে।



