প্রধান খবর সংবাদ শিরোনাম

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা

ক্ষমতা হারালে কেউ রেহাই পাবেন না বাছাধন : আনিসুল হক
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ (ডেস্ক রিপোর্ট ) : একের পর এক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের মধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন  সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক  বলেন, আগামীকালই এ অ্যধ্যাদেশ জারি করা হবে।

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি এতদিন ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু হলে বা দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। পাশাপাশি দুই ক্ষেত্রেই অর্থ দণ্ডের বিধান আছে।

ধর্ষণের অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় কার্যকর করার জন্য আইন সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করা হচ্ছিল বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সেই দাবি আবারও জোরালো হয়ে ওঠে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গত কিছু দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধগুলো কঠোরভাবে দমনের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপ-ধারায় বিধান সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়।

ওই উপ-ধারায় এতদিন বলা ছিল- যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে, তাহলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্ধদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব এসেছে, নারী বা শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ, সমাজে নারী বা শিশু নির্যাতন কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে আইনের ৯(১) উপ-ধারায় অধীন ধর্ষণের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের লক্ষ্যে আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা সম্মতি দেওয়ায় ৯(১) উপ-ধারায় ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড শব্দগুলোর পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড  শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সবাই একমত প্রকাশ করে প্রস্তাবটা গ্রহণ করেছেন। যেহেতু সংসদ কার্যকর নেই, সেজন্য এটা অধ্যাদেশের মাধ্যমে জারি করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।তবে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ এর ১ (গ) ধারায় যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম করার ঘটনা আপসযোগ্য ছিল না। সংশোধনে সেটা আপসযোগ্য করা হচ্ছে বলে তিনি।

সূত্র : বিডি নিউজ

About the author

SOFT PRO IT