নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( গৌতম রায় ) : শামীম ওসমানের ফাঁসি হলো না কেন? তার বিচার হলো না কেন? কতিপয় মানুষের এমন আর্তনাদ দেখে হাসি পাচ্ছিল। কি দারুন বাংলাদেশ। বাদী যখন অভিযোগ করেনি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় যখন তার জড়িত থাকার প্রমান মিলেনি, দেশের তাবদ মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন তন্ন তন্ন করে শামীম ওসমানের জড়িত থাকার প্রমানে অস্থির ছিল, তার বিরোধী রাজনৈতিক ও স্বগোত্রীয়রা যখন কিছুই বের করে আনতে পারলো না তখন বুদ্ধিমানদের (!) অভিযোগ একটাই- কেন তার ফাঁসি হলো না, কেন বিচার হলো না? তাকে ধরে নিয়ে বিচার করলেইই বিচারটা সুষ্ঠু মনে হতো।
প্রসঙ্গত, বিগত ২০০১ সালে চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় একসময় তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। অবশ্য তার অনুপস্থিতিতেই। সেই বোমা হামলায় অল্পের জন্য ভাগ্যগুনে আমিও বেঁচে গেছি। এর কয়েক বছর পর কোলকাতায় শামীম ওসমানের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেই আমি। বোমা হামলায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করার পর তিনি তার পা দেখিয়ে বলেন, এতবড় বিষ্ফোরন ঘটিয়ে সেই টিন শেড ঘরে কেউ থাকার সাহস করবে? সেদিন তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং ভাগ্যগুনে বেঁচে গিয়েছেন। আমি দেখেছি স্প্রিন্টারের আঘাতে তার পায়ের বিক্ষত অবস্থা। দীর্ঘদিন পায়ে রড স্ক্রু লাগানো ছিল। মালয়েশিয়ায় তিনি এসেছিলেন। অনেকেই তার পায়ের অবস্থা দেখেছেন। চেয়ারে বসে এখনো তাকে নামাজ পড়তে হয়। তারপরও অনেকের অভিযোগ তিনিই বোমা হামলায় জড়িত ছিলেন। না হলে তিনি কেন মরলেন না? শামীম ওসমানের উচিৎ ছিল তাকে মরে যাওয়া। মরিলেই প্রমান হইত যে বোমা হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন না।
ঠিক, এবারো মনে হচ্ছে যেহেতু কুখ্যাত নূর হোসেন তার নিজের লোক ছিল সেহেতু ঘটনায় তিনিও জড়িত। বাংলাদেশের নেতাদের সাথে যাদের সম্পর্ক থাকবে তাদের সবাইকে যেন ধূয়া তুলসীপাতা হতে হবে। এরা সবাই হবে ভদ্রলোক। কিন্তু আমার প্রশ্নটা হচ্ছে কোন নেতার কর্মী বা অন্য কেউ অপরাধ করলে কি তার দায়ভার নেতার উপর পড়বে? যেমন, ছেলে খুন করে যদি বাপকে বলে- আব্বা ভুল করে ফেলেছি আমাকে বাঁচান। এজন্য কি বাপের বিচার করতে হবে? নাকি বাপ জড়িত প্রমান হবে? আজ তাই মনে হচ্ছে। ছেলে অপরাধ করেছে বাপের কেন জেল ফাঁসি হলো না? এ নিয়ে চলছে আক্ষেপ, বিশ্লেষন, জ্ঞানগর্ভ মতামত।

