প্রধান খবর সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

লকডাউনের মেয়াদ বাড়লো আরও ৭ দিন

২৮ এপ্রিলের পর থাকছে না ‘ কঠোর লকডাউন ’
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( ডেস্ক রিপোর্টার ) : করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও দিন বাড়ানো হয়েছে বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৪ই জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে আজ ৫ই জুলাই সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে

এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৭ই জুলাই মধ্যরাত থেকে ১৪ই জুলাই দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা বর্ধিত করা হলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সরকার গত জুলাই থেকে সাতদিনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে। দেয়া হয় ২১টি নির্দেশনা। বিধিনিষেধের দিন পার হতে চললেও এরমধ্যে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। কিন্ত সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বুধবার ৭ই জুলাই মধ্যরাতে। এর মধ্যে বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কোভিড১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এই প্রেক্ষাপটে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ ৪ঠা জুলাই রবিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে আরও ১৫৩ জনের প্রাণ, যা একদিনে সর্বোচ্চ। সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে হাজার ৬৬১ জন

বিধিনিষেধে জরুরি সেবা দেয়া দফতরসংস্থা ছাড়া সরকারিবেসররকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা রয়েছে শিল্পকারথানা। জনসমাবেশ হয় এমন কোন অনুষ্ঠানের আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। বিধিনিষেধ ভেঙে বাইরে বের হওয়া ব্যক্তিদের প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হচ্ছে

বিধিনিষেধের বর্ধিত সময়েও মানতে হবে যেসব নির্দেশনা :

. সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে

. সড়ক, রেল নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) সকল প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে

. শপিংমল/মার্কেটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে

. সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে

. জনসমাবেশ হয় ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ধর্মীয় আচারঅনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে

. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে

. ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে

. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমনকৃষি পণ্য উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ইন্টারনেট (সরকারিবেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ফার্মাসিটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে

. পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/কার্গো ভেসেল নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে

১০. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে

১১. শিল্পকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে

১২. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে

১৩. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

১৪. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে

১৫. খাবারের দোকান, হোটেলরেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে

১৬. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবে

১৭. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে

১৮. ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন

১৯. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব আনসার নিয়োগ টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি সময় নির্ধারণ করবেন। সেই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে

২০. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে

২১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন

About the author

SOFT PRO IT