নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : নারায়ণগঞ্জ ধলেশ্বরী নদীতে বালুবাহি একটি ট্রলারের (বাল্কহেড) ধাক্কায় অপর একটি ট্রলার ডুবে নিকটাত্মীয় পাঁচজনসহ ছয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের গোগনগরে ধলেশ্বরী নদীতে ওই ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটির নাম এমভি রহমত উল্লাহ এক্সপ্রেস। বুধবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে ঢাকামুখী খালি একটি বাল্কহেড ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে থাকা মাটি ভর্তি এমভি রহমত উল্লাহকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা ৩০ শ্রমিকের মধ্যে ২৪ জন সাতঁরে তীরে উঠতে পারলেও ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা ৬ শ্রমিক ঘটনার কিছুই টের পাননি। এমভি রহমত উল্লাহ এক্সপ্রেসকে ধাক্কা দেওয়া ট্রলারটি পালিয়ে গেছে। সেটিকে এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটিকে সনাক্ত করা গেলেও সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দুপুরের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একে একে নিখোঁজ শ্রমিকদের লাশ উদ্ধার হতে থাকে। নিহতরা হলেন-সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার জয়নব মিয়ার ছেলে আবু তালেব সরকার, একই থানার মোস্তফা মিয়ার ছেলে নিজাম, আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে সুজন, আজিজুর রহমানের ছেলে শাহীন, শহীদ মিয়ার ছেলে শরীফুল এবং মমতাজ মিয়ার ছেলে সুজব। নিহতদের মধ্যে শরীফুল ছাড়া বাকী ৫ জন পরস্পরের নিকটাত্মীয়। নিহতরা সবাই ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ডুবে যাওয়া ট্রলারের শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা ইটভাটার জন্য মাটি নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টা থেকে সোয়া ১২টার মধ্যে হঠাৎ নদীতে ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে তাদের পাশে থাকা ঢাকামুখী অপর একটি খালি বাল্কহেড নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের বাল্কহেডে সজোরে ধাক্কা দেয়। তাদের বাল্কহেডটিতে মাটি ভরাট থাকায় সেটি খালি বাল্কহেডের ধাক্কায় তলিয়ে যায়। ওই সময় তাদের বাল্কহেডের বেশির ভাগ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ভেতরে ঘুমিয়ে থাকায় বাল্কহেডের ভেতরে যে ৬ জন ছিল যারা ছিল তারা বেরুতে পারেনি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউসুল আজম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার চৌধুরী, সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মালেক প্রমুখ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গাউসুল আজম বলেন, লাশ সিরাজগঞ্জে নেবার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া লাশ দাফনের জন্য নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। রাতেই লাশ সিরাজগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
বাল্কহেড ডুবির খবর পেয়ে দুপুর ৩টায় ঢাকার সদর ঘাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরী ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ছয় সদস্যের ডুবুরী দলে ৩ জন ফায়ার সার্ভিসের এবং অপর ৩ জন বিআইডব্লিউটিএ’র।
ফতুল্লার বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে। দু’টি বাল্কহেডই ঢাকা অভিমুখী ছিল। ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে খালি বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটির উপরে উঠে যায়। এতে মাঠি ভরা বাল্কহেডটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নিখোঁজ ৬ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস এ- সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জের উপ সহকারী পরিচালক দীনুমনি শর্মা বলেন, নারায়ণগঞ্জে ডুবুরী না থাকায় ঢাকার সদর ঘাট থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দলের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরীরা অংশ নেয়। ডুবুরীরা নিখোঁজ ৬ শ্রমিকের লাশই উদ্ধার করেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি সনাক্ত করা হলেও রাত হয়ে যাওয়ায় সেটিকে উদ্ধার করা যায়নি। ডুবে যাওয়া বাল্কহেডটি উদ্ধারে আজ আবার কাজ শুরু হবে।

