বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : গণসংহতি আন্দোলনের প্রথম কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৬ই মে বুধবার সকাল ১১টায় গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, নারী সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্পাদক পপি রানী সরকার, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য নাজমা বেগম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি মহানগর কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ইলিয়াস জামান, সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা, মওলানা ভাসানী পাঠাগারের সংগঠক রোহিত ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রথম নির্বাহী সমন্বয়কারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংবিধান ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আপোষহীন নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণের আগে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থেকে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান দলের নেতাকর্মীরা। এরপর একে একে গণসংহতি আন্দোলন, নারী সংহতি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ও মওলানা ভাসানী পাঠাগারের পক্ষ থেকে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জননেতা আবদুস সালামের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করা হয়। পাঠ পরবর্তী আলোচনায় তরিকুল সুজন বলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, জনগণের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা. মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে মৌলিক চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর রচনায়। রাষ্ট্রের সংবিধান, যা সমস্ত আইনের ভিত্তি এবং নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আশ্রয় হবার কথা, তার পর্যালোচনায় তিনি তাঁর মনোযোগের অনেকটাই নিবেদন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অগণতান্ত্রিক বৈশিষ্ঠ্যগুলো চিহ্নিত করে তার পর্যালোচনা হাজির করেছেন। কীভাবে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন, কীভাবে বাজেট প্রণয়নে তাদের অংশগ্রহণের পথ কার্যত রুদ্ধ করা হয়েছে, কেমন করে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সাংবিধানিক আয়োজন করা যেতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে তিনি পথ নির্দেশনামূলক আলোচনা করেছেন। সর্বোপরি তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কর্তব্যকে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। শ্রমিক শ্রেণী যেকোন ঐতিহাসিক পর্বে, সেই পর্বের যে ধরনের পরিবর্তন সম্ভব সেই ধরনের পরিবর্তনই করতে পারে, এমনকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাও যে শ্রমিক শ্রেণীরই কাজ সেই উপলব্ধিও তিনি তার চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। মার্কসবাদকে সবসময়ই একটা চিন্তা পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে তিনি কোন একটা দেশের/অঞ্চলের ইতিহাসের বিকাশের মধ্যে তাকে স্থাপন করে সেই দেশের জন্য বিপ্লবী কর্তব্য স্থির করায় বিশ্বাসী ছিলেন। আমরা এই মহান নেতার পথ অনুসারী। তিনি আমৃত্যু মেহনতি মানুষের পক্ষে থেকে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করে গেছেন। তার মৃত্যুদিনে আমরা তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জননেতা আবদুস সালাম তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন।

add-content

আরও খবর

পঠিত