নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এর পাইকপাড়া বড় জামে মসজিদ নামকরণ ও কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষের মাধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও একই কমিটি বহাল থেকে হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছেনা এমন অভিযোগে আরেকটি পক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা হলে মসজিদ প্রাঙ্গনে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সুষ্টি হয়। পরে সদর মডেল থানা পুলিশ এসে মুসুল্লিদের স্থান ত্যাগ করিয়ে পরিবেশ শান্ত করে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুম্মার নামাজ শেষে ১৭ নং ওর্য়াড উল্লেখিত এলাকার মসজিদ নিয়ে এ অপ্রিতিকর ঘটনাটি ঘটে। তবে এবারই প্রথম নয় দীর্ঘদিন ধরেই এই বিরোধ চলে আসছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে এটি যে কোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে এমন আশংকায় ভীত এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মদ এর সাথে কথা হলে তিনি নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ এর প্রতিবেদককে জানান, একটি পরিবারের নামের সাথে এই মসজিদটির নামকরণ করতে চেয়েছিল। যা নাকি সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অযৌক্তিক। আর তারাই মসজিদে নির্মাণ কমিটি নামে আরেকটি কমিটি করতে চাচ্ছে শুনেছি। কিন্তু কারা রয়েছে তা কিছু জানিনা। দীর্ঘ দিন ধরেই এ মসজিদটি পাইকপাড়া বড় জামে মসজিদ নামে পরিচিত। আমি সকলের হয়েই মসজিদ কমিটিতে সভাপতি দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়া আজ একটি পক্ষ মসজিদে এসেছে। কথা বলার সময় কেউ একজন অতিউৎসাহী লোক হিসাব চেয়ে দাবী উঠায়, এ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা তা হতে দেয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের কাছে জানা গেছে, উল্লেখিত মসজিদে দীর্ঘ দিন ধরে কমিটিতে নূর মোহাম্মদ দায়িত্ব পালন করে আসছে। তবে এবার গম জসিমের ভাই এবং মিঠু নামের একজন নির্মাণ কমিটি নামকরণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এমন অভিযোগ মুসুল্লিদের। একই সাথে মোল্লা বাড়ির ওয়ারিশ দাবি করছে মসজিদটির ওয়াকফ ছাড়াও অনেকাংশ তাদের মালিকানা জমিতে রয়েছে। এ নিয়ে নাসিক ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় গিয়ে মোল্লা বাড়ির ওয়ারিশররা অবগত করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন মুসুল্লি বলেন, মসজিদে আসি নামাজ পড়তে। মাঝখানে করোনার কারণে মসজিদে নামাজ পড়া হয়নি। এখন যা দেখতে পাচ্ছি সামনে নামাজ পড়তে পাড়বো কিনা সন্দেহ হচ্ছে। আমরা নিরীহ মানুষ। মসজিদে আসি নামাজ পড়তে। কিন্তু দুই পক্ষের নোংরামির কারণে নামাজটাও ঠিকমত পড়তে পারছি না। এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে নাসিক ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সির আব্দুল করিম বাবু বলেন, আমাকে অবগত করার পর আমি উভয় পক্ষকেই নোটিশ করেছিলাম।উভয় পক্ষ নিয়ে বসা হয়েছিল। তবে তাদের কাগজপত্র স্পষ্ট নয়, যেহেতু অনেক পুরনো। এরপর এ বিষয়টি সমাধানে আবারো বসার কথা ছিল। কিন্তু তারা কিছুই জানায়নি, যোগাযোগও করেনি। আজ হট্রগোলের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে মসজিদে কোন রকম গন্ডগোল কাম্য নয়। আমি এমপি সেলিম ওসমান এবং জেলা প্রশাসকের সহযোগীতা পেলে এটার সমাধান করতে পারবো।