ফতুল্লা সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

এক মাস পর জানা গেল জসিমকে হত্যা করা হয়েছে

এক মাস পর জানা গেল জসিমকে হত্যা করা হয়েছে
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : ফতুল্লায় নিজ বাসা থেকে আফ্রিকান প্রবাসী জসিম উদ্দিনের (৩৮) মরদেহ উদ্ধারের এক মাস পর হত্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নিহতের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লার উত্তর ভুইগড় এলাকার নিজ বাসা থেকে ওই প্রবাসী যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় ফতুল্লা মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। পরে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে ১১ মার্চ রাতে নিহতের মা অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। নিহত জসিম উদ্দিন নোয়াখালীর চাটখিল থানাধীন নোয়াখোলা কাইতার বাড়ি এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।

জানা গেছে, জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন আফ্রিকায় প্রবাসে ছিলেন। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে উত্তর ভুইগড় এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রী আয়েশা আক্তার নিপুর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় উত্তর ভুইগড়ের বাড়িতে একাকী জীবনযাপন করছিলেন জসিম উদ্দিন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান গ্রামে বসাবাস করেন।

মামলার এজাহারে নিহত জসিম উদ্দিনের মা আলেয়া বেগম বলেন, আমার মেজো ছেলে জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার পর ২০১৬ সালে দেশে আসে। অত:পর ফতুল্লার উত্তর ভুইগড়ে বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার নিপুর সঙ্গে মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে জসিম গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর সে বর্তমান ঠিকানায় একাকী থাকতো।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জসিমের সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তানের সর্বশেষ কথা হয়। এর কিছুদিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে জসিমের বন্ধু মো. মামুন সংবাদ দেয় যে, জসিম উদ্দিন মারা গেছে। ঘরেই তার মরদেহ পচে ফুলে রয়েছে। গ্রামের বাড়ি থেকে তাৎক্ষণিক আমি ও আত্মীয়-স্বজন ছেলের বাসায় আসি। ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। প্রায় এক মাস পর গত ১০ মার্চ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থানায় আসে।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আসাদুজ্জমান ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলেন, জসিমকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি উত্তর ভুইগড় এলাকার নিজ বাসা থেকে জসিম উদ্দিনের পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একাই ওই বাড়িতে বসবাস করতেন বলে জানতে পেরেছি। মরদেহে পচন ধরায় হত্যাকাণ্ড কীভাবে হয়েছে সেটা বুঝা যায়নি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করি। গত ১০ মার্চ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থানায় আসে। রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা কে বা কারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। এরপর নিহতের মা বুধবার (১১ মার্চ) রাতে থানায় এসে হত্যা মামলা করেন।

ওসি আরও বলেন, আমরা তদন্তে নেমেছি। এ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুতই এর রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।

About the author

SOFT PRO IT