নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে আইয়ুব প্লাজার সামনে ব্যাঁঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠা দোকানগুলো উচ্ছেদ করলেন সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি খোকা নিজেই। সোমবার ১১ এপ্রিল রাতে সোনারগাঁ আইয়ুব প্লাজাস্থ নীজ কার্যালয়ে প্রয়াত দুই নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপচে পড়া মানুষের ভীড় ও প্রচন্ড গরমের মধ্যেই ঘাঁম জড়িয়ে নানা সমস্যা নিয়ে আগত সোনারগাঁবাসী লোকদের সাথে আলোচনা শেষে দলীয় নেতা কর্মীদের বিদায়ের পর প্রায় রাত ১২ টায় আচমকা তিনি তাদের মার্কেটের সামনে হাজির হয়।
এসময় দোকানীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোদের বহুদিন আগেই বলেছিলাম এখান থেকে দোকান অন্যত্র সরিয়ে নিতে কিন্তু তোরা আমার কথা আমলে নেসনি । তোদের কারনে জন সাধারণ র্দূভোগ পোহাচ্ছে তার সাথে আমার বদনাম হচ্ছে। আমি এর্পযন্ত বহুবার বলেছি, আজ সন্ধ্যায় ও তোদের ভালোভাবে বলে গিয়েছি তারপর ও তোদের কানে যায়নি। আমি কি তোদের থেকে ভাড়া খাই না তোদের দোকান বসানোর জন্য বলেছি। তোদের গরীবদের দিকে তাকিয়ে এতো দিন কিছু বলিনি কিন্তু তোদের জন্য যখন আমার সোনারগাঁবাসীর ভোগান্তি হচ্ছে এখানে আর একটা দোকানও থাকতে পারবে না। আজ থেকে এখানে যদি কোন দোকান বসে তা হলে আমি নিজে তাকে পুলিশে সোপর্দ করব। তৎখনাত সোনারগাঁ থানায় মুঠোফোনে পুলিশের কাছে এব্যাপারে সাহায্য চায় সোনারগাঁ ৩ আসনের এমপি খোকা এবং আগামীকাল থেকে এখানে যেন পূনরায় দোকান স্থাপনা না হয় সেদিকে নজরদারী রাখার অনুরোধ জানায়। এরপর ঐ মূহুর্তে নিজেই নেমে পড়েন ফুটপাতের অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানগুলো উচ্ছেদের কাজে। এতো রাতে এমপির উচ্ছেদ অভিযান দেখে ভীড় জমায় উৎসুক জনতা, এলাকার কয়েকজন গন্যমান্য ব্যাক্তিরা সহ বেশ কয়েক জন যুবকরা এগিয়ে আসেন এবং তার কাজে সহযোগীতা করেন।
এব্যাপারে এলাকার লোকজনসহ দোকানীদের সাথে আলাপ করলে তারা নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ এর প্রতিবেদককে জানায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি রঙ্গিন দৈনিক পত্রিকায় এমপি কে জড়িয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যার কারণে তিনি দোকানীদের উপর ক্ষেপেছেন । উক্ত পত্রিকায় প্রকাশিত সিএনজি স্ট্যান্ডটি তুলে দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ মার্কেট মোগড়া পাড়া চৌরাস্তায় যানজটের অন্যতম কারণ দখলবাজী আর চাঁদাবাজি শিরোনামে সংবাদটিতে বলা হয়েছে অবৈধ মার্কেট র্নিমান করে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ করে টাকা সেলামী দিয়েছে যা কিনা মিথ্যে কথা। সেলিম নামের এক ফল ব্যাবসায়ী জানান , সব মিলিয়ে আমাদের ব্যাবসার পুঁজিই ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা সেখানে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আমরা কোথা থেকে দিব । তা ছাড়া ড্রেন র্নিমানের পর জায়গাটি খালি পড়ে থাকাতে আমরা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা এখানে বসে ব্যাবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে দু-মুঠো খেতাম এরজন্য বহুবার এমপি খোকা ভাই আমাগো এই যায়গা ছাইরা দিতে কইছে কিন্তু আমরা তার কথা হুনি নাই । তাছাড়া পেপার অলারা যে সিএনজি ষ্টেশনের কথা কইছে এটারও কোন বৈধতা নাই।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক অপর একজন ফল ব্যবসায়ী জনায়, আমরা গরীব লোক বলে আমাদের দয়া করে এমপি সাহেব কিছু বলতো না। সাবে অনেক ভালা মানুষ, আমরা এই গ্রামের পোলাইতো সাবেরে আমরা ভালা করে চিনি। সাবের কোন দোষ নাই, আমরা সাবেরে কোন দোষ দেই না। সাবের কি কম আছে যে আমাগো চান্দা খাইবো।? আমাদের কপাল খারাপ। ওনারা হুদাহুদি সাবের বিরুদ্ধে লেইখ্যা আমাগো পেটে লাথি মারলো এর বিচার আল্লায় করব। ওগো পেটে আল্লায় এমন লাথি মারব যেটা কোন ডাক্তার কবিরাজ, হেকিম ও ভালো করতে পারবো না এটা গরীব মাইনসের আভিশাপ । আল্লাহ্ ওদের বিচার কইরো। এই কথা বলার পর ওনার দুইচোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। চা দোকানী আলী আহাম্মদ সহ মিলন , নাসির, হুমায়ুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে এমপি খোকা সাহেবদের কি আল্লা কম দিয়েছে যে ফুটের টাকা ওনারা খাইবো।

