নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) : নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জে ৩০ বছরের যে যুবককে গণপিটুনিতে মারা হয়েছে সে বাক প্রতিবন্ধী ছিল। ছেলে ধরা বিষয়টি গুজব ছিল। আর এই গুজবে এলাকাবাসী জড়িত। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছি। একটি মহিলাকে মারপিট করেছে এবং আজকেও ফতুল্লায় একজনকে মারধর করা হয়েছে। আমরা সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছি এবং এসকল ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে হুশিয়ারী দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা এই গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ ছেলেধরা গুজব ছড়ানোর বিষয় নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মনে করি, একটি গোষ্ঠী এই ছেলে ধরাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এই কারণেই আমরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করেছি। এই গুজবে কান দেয়া যাবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আপনারা যদি কাউকে সন্দেহ করে থাকেন তাহলে পুলিশকে জানাবেন।
এসপি হারুন অর রশিদ বলেন, এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই গুজব ছড়াচ্ছেন। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সেই তদন্ত অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এই গুজবে জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। কিছু কিছু জনপ্রতিনিধিও এই গুজবে জড়িয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে বলবো গুজব না ছড়িয়ে পুলিশকে জানান। নিজেরা সতর্ক হন এবং অপরকেও সতর্ক করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ওসি কামরুল ইসলাম ও ফতুল্লা থানা ওসি আসলাম হোসেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইও-টু ইন্সপেক্টর রোমন সাজ্জাদ প্রমুখ।

