নারায়ণগঞ্জ র্অথনীতি সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ সোনারগাঁ

দিনে পরিচয় সাংবাদিক আর রাতে ডাকাত সর্দার !

দিনে পরিচয় সাংবাদিক আর রাতে ডাকাত সর্দার !
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( সোনারগাঁও প্রতিনিধি ) : সংবাদপত্রের আইডি কার্ড গলায় ঝুলানো। সাথে ডিএসএলআর ক্যামেরা। দেখলে মনে হবে সে একজন সংবাদ কর্মী। আসলে সে একজন ডাকাত সর্দার। তার নাম মো. হোসেন আলী। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা আটিপাড়া। সে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার ফটো সাংবাদিক পরিচয় দেন।

যে বাড়িতে ডাকাতি করবে সে বাড়িতে সাংবাদিক পরিচয়ে দিনের বেলায় র‌্যাকি করে আসতো। কারো যাতে সন্দেহ না হয় তাই এমন পেশাকে বেঁছে নিয়েছেন। এমন একজন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর পুলিশের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য কার্ডও দেখান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সোনারগাঁওয়ে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভিটিকান্দি এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় বারদি এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় মো. হোসেন আলী। হোসেন একজন পেশাদার ডাকাত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে। ২৭ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউসার আহম্মেদের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারা জবানবন্দীতে অভিনব কৌশলে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন।

সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাত সর্দার মো. হোসেন আলী চালাক প্রকৃতির। সে ডাকাতির পাশাপাশি এমন একটি পেশা বেঁছে নিয়েছেন। যে পেশায় কাজ করলে কেউ তাকে অপরাধী বুঝতে না পারে। সে সাংবাদিকতার আড়ালে ডাকাত। ডাকাতি করার নতুন কৌশল হিসাবে টাকার বিনিময় দৈনিক দেশ পত্রিকার একটি আইডি কার্ড নিয়েছেন।

ডাকাত হোসেন আলী ডাকাতি করার আগে অভিনব কৌশল হিসাবে দৈনিক দেশ পত্রিকার আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে, হাতে ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কোথায়, কোন বাড়িতে ডাকাতি করলে অনেক টাকা ও স্বর্নালংকার পাওয়া যাবে সে সন্ধান বের করতো।

পরে ডাকাত সর্দার হোসেন আলী রাতের বেলায় ডাকাত দল নিয়ে ডাকাতি করার উদ্দেশ্য বের হতো। তখনও তার গলায় সাংবাদিকতার আইডি কার্ড ঝুলানো থাকতো। রাস্তায় কোন পুলিশ গতিরোধ করলেই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ডাকাতদের বাঁচিয়ে নিতো। ডাকাতি শেষে ফেরার পথেও গাড়ির সামনে গলায় সাংবাদিক লেখা আইডি কার্ডটি ঝুলিয়ে বসে থাকতো ডাকাত সর্দার মো. হোসেন আলী।

এসআই আজাদ আরো জানান, সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের গত ১৫ জুন রাতে মনজুর হাজির বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় গেইট ও দরজার তালা কেটে ঘর সকলের হাত পা বেধে টাকা ও স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে গত বুধবার রাতে ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় ডাকাতদের কাছ থেকে ওই বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। এসময় ডাকাতদের তথ্যের ভিত্তিতে বারদি এলাকা থেকে ডাকাত সর্দার হোসেন আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে দেশ পত্রিকার সরবরাহকৃত একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর এসব চাঞ্চল্যকার তথ্য বেরিয়ে আসে তার কাছ থেকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সর্দার হোসেন আলী জানান, তার বিরুদ্ধে আরো ৩টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। মামলা গুলো আদালতে বিচারাধীন। তার ডান পায়ে একটু সমস্যা রয়েছে। ডাকাতির সময় তার কোন অসুবিধা হয় না। ডাকাত দল যখন ডাকাতি করে তখন সে বাহির অবস্থান করে। ডাকাতি শেষে সমস্ত মালামাল তার কাছে হস্তান্তর করে ডাকাতরা। পরে স্বর্নালংকার বিক্রয় করে টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দেয় সে। তবে লুট করা মালামালের অর্ধেক ভাগ সে একাই ভোগ করে।

ডাকাত হোসেন আলী আরো জানায়, সাংবাদিক পরিচয় দিলে লোকজন তাকে অপরাধী হিসেবে সন্দেহ করে না। এ জন্য দৈনিক দেশ পত্রিকা থেকে বিশ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি আইডি কার্ড ক্রয় করেন। পরবর্তীতে কার্ড নবায়নের জন্য ছয় মাস পর পর ৫ হাজার টাকা দিতেন সে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, অপরাধ ঢাকার জন্য ডাকার সর্দার হোসেন আলী অভিনব কৌশল ব্যবহার করেছেন। ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে।

About the author

SOFT PRO IT