নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( ডেস্ক রিপোর্ট ) : লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় ফণী সম্পর্কে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কোনোক্রমেই ঘূর্ণিঝড় ফণীকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা যাবে না। শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অফিস নিদন্তর অনুসরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কোনোক্রমেই আমাদের উপর যে ঝুঁকি ছিল সেটাকে খাটো করে দেখা সমীচিন হবে না। উপকূলীয় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে নেওয়ার তৎপরতা অব্যহত রাখতে হবে এবং স্থানীয় মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জন্য।
তিনি আরও বলেন, আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত আছি। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। বিষয়টি মানুষকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তাই দিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, কোনক্রমেই এই সাইকোলনকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা যাবে না। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে।
নজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সেখানে ভূমি ধ্বসের সম্ভাবনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজিল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভারতের ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর। যশোর ও পটুয়াখালী অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে ঝড়টি। তবে এর গতিবেগ কমে ৮০-৯০ কিলোমিটার হবে।
বিকালে আবহাওয়া অধিদফতরে পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী ভারতের চেয়ে প্রায় অর্ধেক গতিবেগ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ ও কাল থেমে থেমে বৃষ্টি হবে।
শামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ওড়িশা রাজ্যে ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত হানার পর ফণী দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে আসবে ৮০-৯০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে। মোংলা, পায়রা বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতই বহাল রাখা হচ্ছে। আপাতত এর বেশি বাড়ছে না। চট্টগ্রামে ৬ আর কক্সবাজারে ৪ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সূত্র: পূর্বপশ্চিম বিডি.নিউজ

