প্রবাস সদ্যপ্রাপ্ত

বার্লিনে নিজ কক্ষ থেকে বাংলাদেশি ব্লগারের মরদেহ উদ্ধার

বার্লিনে নিজ কক্ষ থেকে বাংলাদেশি ব্লগারের মরদেহ উদ্ধার
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( প্রবাস বার্তা ) : বাংলাদেশি এক ব্লগারকে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তার বাসা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ৷ তবে ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি৷ তার নাম তমালিকা সিংহ।

লেখকদের সংগঠন পেন জার্মানির উদ্যোগে বার্লিনে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই ব্লগার। তিনি ব্লগার হিসেবে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে পরিচিত ছিলেন এবং অর্পিতা রায়চৌধুরী নামে লেখালেখি করতেন৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে তমালিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ নিজের বাসার স্নানঘর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়৷ সেখানে উপস্থিত একজন চিকিৎসক সিংহকে মৃত ঘোষণা করেন৷

মৃতের পরিবার চাইলে মরদেহ দেশে নেয়ার ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে বাংলাদেশের দূতাবাস৷

পেন জার্মানিও ব্লগারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে৷ তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পেন জার্মানির মুখপাত্র ফিলিক্স হিলে৷

ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, আমরা আমাদের (নির্বাসিত লেখক) ফেলো অর্পিতা রায়চৌধুরীর (ছদ্মনাম) মৃত্যুতে অত্যন্ত শোকাহত৷ যেহেতু পুলিশের তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে, তাই এই বিষয়ে আমরা আর কোনো মন্তব্য করতে পারছি না৷

বাংলাদেশের আরেক নির্বাসিত ব্লগার জোবায়েন সন্ধি এবং তমালিকা সিংহ কাছাকাছি ভবনে থাকতেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, সিংহর সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল৷ সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর তাদের কথা হয়েছিল।

পেন জার্মানির ওয়েবসাইটে তাকে ব্লগার ও অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। ১৯৯৫ সালে অর্পিতার জন্ম। ২০১২ সালে থেকে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে তিনি ফেসবুক এবং বাংলা ব্লগে লেখালেখি করতেন।

২০১৭ সালে এক্সাইল বা নির্বাসন কর্মসূচির জার্মান রাইটার্সের ফেলো হিসেবে তাকে বার্লিনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দীর্ঘ ভিসা কার্যক্রম শেষে একই বছরের ডিসেম্বরে তিনি জার্মানিতে পাড়ি জমান।

উল্লেখ্য, পেন জার্মানি এখন অবধি বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্লগার এবং লেখককে জার্মানিতে নির্বাসিত জীবনযাপনে সহায়তা করেছে৷ তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন লেখক হুমায়ুন আজাদ৷ তাকেও ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মিউনিখে নিজের বাসা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ৷

About the author

SOFT PRO IT