রূপগঞ্জ সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

গোলাকান্দাইল ভূমি অফিস : মাসিক আয় ৩০ লাখ টাকা

গোলাকান্দাইল ভূমি অফিস : মাসিক আয় ৩০ লাখ টাকা
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( রুপগঞ্জ সংবাদদাতা ) : রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ভূমি অফিসদু র্নীতির খনি । এ অফিসের নায়েব আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে বেপরোয়া দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বেতনের বাইরে তার প্রতিদিন  ঘুষ অন্তত লাখ টাকা, মাসে আয় ৩০ লাখ টাকা। তিনি নিজেকে ভূমি সচিবের আত্মীয় পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ান। কয়েক বছরে ফুলেফেঁপে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক।

এদিকে আবদুল জলিলের আপসারণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। দুর্নীতিবাজ নায়েব জলিল ও মজিবরকে অপসারণ করা না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

এ ব্যাপারে আবদুল জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, অন্য কেউ অবধ্যভাবে টাকা নিলে সেটা আমার দেখার কোনো বিষয় না। আমাকে যদি কেউ ইচ্ছে করে দেয় তখন আমার নিতে হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা, আমার কাছে কেউ অিভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয় আছে জনগনের সুবিধা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নায়েব জলিল ভূমি সচিবের আত্মীয় পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার এলএ শাখার এক কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন দাবি করে সুবিধা লুটতে ব্যস্ত থাকেন। তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি), সার্ভেয়ারসহ কাউকে পরোয়া করেন না। কয়েক বছরে অবৈধ পন্থায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়েগেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় রয়েছে তার ছয়তলা আলিশান বাড়ি, শরীয়তপুরের নিজ এলাকায় দোতলা বাড়ি। রয়েছে কয়েক বিঘা জমি। দামি গাড়ি হাঁকান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোলাকান্দাইল ভূমি অফিসের নায়েব আবদুল জলিলের নামজারি, (খ) তফসিলসহ বিভিন্ন কাজে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। নায়েব জলিলকে শতাংশপ্রতি দিতে হয় ৩ হাজার টাকা করে। এভাবে দৈনক অবৈধ আয় অন্তত লাখ টাকা। এ টাকা জলিল ও সহকারী নায়েব মজিবর ভাগাভাগি করে নেন। আর সাধারণ নামজারি শতাংশপ্রতি তাকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। মিস কেস তদন্তে প্রতিবেদনের জন্য গুনতে হয় ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী মকবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, একটা ১০ শতাংশের (খ) তফসিলের কাম লইয়া আইছিলাম নায়েব জলিলের কাছে। উনি আমার কাছে শতাংশপ্রতি ৫০ হাজার টাকা চান। ১০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলতেই বকাঝকা করে রুম থেকে বের করে দেন।

আরেক ভুক্তভোগী ষাটোর্ধ্ব মনির হোসেন। এসেছেন নাগেরবাগ এলাকা থেকে। জিজ্ঞেস করতেই ক্ষোভের সুরে বলেন, এই দেশে কি আইনকানুন নাই। একটা মিস কেসের রিপোর্ট (প্রতিবেদন) দেয়ার জন্য জলিল চাইলেন এক লাখ টাকা। অথচ আমার কাগজপত্র সব ঠিক আছে।

কায়েতপাড়ার রজ্জব আলী মিয়া বলেন, আমি একটা খারিজের কাজ নিয়ে এসেছি। কাগজপত্র ঠিক আছে। আবদুল জলিল দাবি করলেন ১৫ হাজার টাকা। এরকম অভিযোগের কোনো শেষ নেই।

About the author

SOFT PRO IT