নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( নগর প্রতিনিধি ) : নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ নেতারা মীরজাফর ও গাদ্দার হিসেবে আখ্যা দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি শূণ্য, বিএনপির নাম মূছে দেবো। সকল নেতাদের কঠিন শিক্ষা দিয়ে নতুনদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া হবে। নাসিক নির্বাচনে কোন কোন নেতা দূর্নীতি করেছে তার প্রমান আমার কাছে আছে। গত ৩ জানুয়ারী মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে বেগম জিয়ার সাথে ১২ নং ওর্য়াডের তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর সৌজন্যে সাক্ষাত কালে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি এমনই ক্ষুদ্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেন বেগম খালেদা জিয়া।
নাসিকের ১২ নং ওয়ার্ডের হেট্রিকখ্যাত কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু কে ধন্যবাদ জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত কালে ১২ নং ওর্য়াডের পর পর তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুর সাথে প্রায় ১০ মিনিট কথা বলে নাসিক নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ভড়াডুবির কারন জানতে চান। এ সময় শকু তার ওর্য়াডে বিএনপির প্রার্থী সম্মান জনক ভোট পেয়েছে বলে বেগম জিয়া কে জানান। নাসিক নির্বাচনে নারীসহ মোট ১৫জন বিএনপির কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে বলে বেগম জিয়ার কে জানান কাউন্সিলর শকু। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বেগম জিয়ার কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর শকু আবার ডাকতে পাঠান বেগম জিয়া। তখন বেগম জিয়া কাউন্সিলর শকু কে জিজ্ঞেস করেন কালাম, তৈমুর ও গিয়াস তোমার কি হয় ? উত্তরে শকু বলেন, তারা আমার দলীয় নেতা। ওনারা আমার আত্মীয় নয়। শকু জানান, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ। বেগম জিয়া বলেন, নাসিক নির্বাচনে কোন কোন ওয়ার্ডে কি হয়েছে তার তালিকা ম্যাডামের কাছে আছে। বেগম জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি তোলার ইচ্ছা পোষণ করলে শকু কে তিনি (বেগম জিয়া) বলেন, এই ছবিই আমাদের ডুবিয়েছে। এখন ছবি না তুমি আরেকদিন এসো, তারপর ছবি তুলবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার সাথে কাউন্সিলর শকু সাক্ষাত করতে গেলে গুলশান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা আনিসুল সানি কে দেখা যায়। জাসান নেতা সানি জানান, তাকে নাসিক নির্বাচনের একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সকালে বিএনপির পল্টন অফিসে পরে সেখান থেকে গুলশানে বেগম জিয়ার কার্যালয়ে আসেন তিনি। নাসিক নির্বাচন বিষয়ক একটি প্রতিবেদন বেগম জিয়ার দফতরে জমা দিয়েছেন তিনি। তিনি বিএনপির নির্বাচিত কাউন্সিলরদের দিয়ে বিএনপিতে তরুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন। তবে বেগম জিয়া কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময় জাসাস নেতা আনিসুল ইসলাম সানি বিএনপি চেয়ারপারসনের কক্ষে প্রবেশ করেননি।
নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা সাবেক এমপি এডঃ আবুল কালাম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপি সভাপতি এডঃ তৈমুর আলম কে রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠানোর আভাস পাওয়া গেছে। এ তিন নেতার প্রতি ভীষন ভাবে ক্ষুদ্ধ ও নাখোশ রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সদ্য সমাপ্ত নাসিক নির্বাচনে তিন নেতার ভূমিকায় বেগম জিয়া তাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। নাসিক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষদের নেতার কি ভূমিকা, এবং ২৭টি ওর্য়াডে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোটের তালিকা বেগম জিয়ার দফতরে জমা রয়েছে। বেগম জিয়া বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে প্রমানসহ অভিযোগ হাতে পেয়েছেন বলে জানান গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানরত কেন্দ্রিয় বিএনপির এক নেতা। বেগম জিয়া প্রতি কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন বলে জানা যায়।দলীয় ভাবে এ তিন নেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানান।
উল্লেখ্য, নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওর্য়াডের পর পর দুই বার এবং বিলুপ্ত নারায়নগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন শওকত হাসেম শকু। বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাতকালে কাউন্সিলর শকু বিএনপি কোন শীর্ষ নেতাকে না নিয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা ফারুক আহম্মদ রিপনসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মী মাহাবুব হাসান জুলহাস, তান্না, জসিম ও আসিফ নিয়ে যান।বেগম জিয়ার সাথে আগামীতে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতৃত্ব প্রত্যাশী তরুন নেতা কাউন্সিলর শকুর সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগে বিএনপি’র অনেক শীর্ষ নেতার ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

