নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : নারায়ণগঞ্জে ড্রামের ভেতর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ। বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন পরকীয়া প্রেমের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং হত্যার পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে দেহ থেকে পা খন্ডিত করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা, তার দুই মেয়ে সুমনা ও সানজিদা, পরকিয়া প্রেমিক রাসেল ওরফে ঠোঙ্গা রাসেল, চয়ন, মানিক ও জুয়েল।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, নিহত নয়নের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সে মাদক মামলায় ৩ বছর জেলখানায় ছিলেন। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক। এদিকে নয়নের সঞ্চিত প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিল তার স্ত্রী সাবিনার কাছে। ১০/১২ দিন আগে নয়ন জেল থেকে বের হয়ে স্ত্রীর কাছে সেই টাকা চান। জেলে থাকায় তার মামলা চালাতে সেই টাকা খরচ হয়েছে বললে নয়ন সেটি বিশ্বাস করেননি। এদিকে দীর্ঘদিন জেলে থাকায় সাবিনার সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাসেলও একজন মাদক ব্যবসায়ী বলে জানায় তিনি।
পুলিশ সুপার আরো জানান, রাসেলের সঙ্গে সাবিনার সম্পর্কের বিষয় নিয়ে নয়নের সঙ্গে সাবিনার ঝগড়া হয়। এর রেশ ধরেই গত রোববার নয়নকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর একদিন নয়নের মরদেহ বাসাতেই ছিল। এরপর গত সোমবার রাতে নয়নের পা দুইটি বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দেহের উপরিভাগ ড্রামে ভরে শিয়ারচর এলাকার নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। বিচ্ছিন্ন করা পা দুইটি পিলকুনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে হামিদা বেগমের বাড়ির সামনে বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, জেলা গোয়েন্দা শাখা অফিসার ইনচার্জ জহির ও অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা।



