নারায়ণগঞ্জ প্রধান খবর বিশেষ সংবাদ র্অথনীতি সংবাদ শিরোনাম সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

ফুলের সুবাস আর রঙ বেরঙের ফুলে ঘিরা মাঠ, যে গ্রামটির নাম সাবদী

Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪: গ্রাম গুলিকে মনে হয় যেন দিগন্ত জুড়ে রঙ বেরঙের কার্পেট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে মাঠের পর মাঠ, যে গ্রামটির নাম সাবদী। কিন্তু সকলেই একে আখ্যায়িত করে থাকেন ফুলের গ্রাম বলে।নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় সাবদী যার পাশাপাশি এলাকা দিঘলদী, কল্যাণদী, মাধবপাশা, সেলসারদী গ্রামেও রয়েছে বিঘার পর বিঘা ফুলের বাগান । ফুলের চাষ করে এ সকল গ্রামের অনেকেই এখন সাবলম্বী। শুধু জমির মালিকরা নন, ফুল চাষের সাথে জড়িত রয়েছেন কমপক্ষে ৫ হাজার নারী-পুরুষ। এখানে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ হয়েছে ফুল চাষের মাধ্যমে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় দীর্ঘ দেড় যুগের এই ফুল চাষের উপর তেমন কোন তথ্য নেই স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে। তাছাড়া কি পরিমান জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে সে তথ্যও জানেন না সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের এই প্রতিষ্ঠান। পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া অভিজ্ঞতা দিয়েই এখানকার ফুল চাষীরা নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার ফুলের বাজারের বড় একটি চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছেন বছরে পর বছর ধরে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠগুলি পুষ্পে মোহিত বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য। আর সামনে আসলে মনে হয় এযেন পৃথিবী নয়, ছোট কোন স্বর্গে অবস্থান করছি আমরা। চারিদিকে শুধু ফুল আর ফুল। সারি সারি লাল, হলুদ, কমলা, সাদা রঙের গ্যালাডিয়া, নানা রঙের গাদা, চেরী, জিপসি, ডালিয়া, গোলাপ, জবা আর কাঠবেলীর বাগান দেখে যে কারোই মন ভালো হয়ে যায়। শিল্পাঞ্চল নারায়নগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যার পূর্ব পারেই রয়েছে এই ফুলের সমারোহ। কথা হয় ফুল চাষী এমদাদ হোসেন, কামরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনের সাথে। তারা নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ কে জানালেন, শীত মৌসুমসহ সারা বছরই জাপানী লাল গাঁদা, রজনীগন্ধা ও গ্যালডিয়া চাষের উপরই সবার ঝোকটা বেশী। কারণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দিবসে এই ফুলের চাহিদাটা অনেক বেশী। গ্যালাডিয়ার বীজ সংগ্রহ করে থাকেন মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়া-গোপালপুর ও যশোর থেকে। মূলত গ্যালডিয়ার বীজ দুরকমের হয়ে থাকে। এক ধরনের বীজ থাকে বড় এবং অপরটি স্থানীয় ভাষায় গুড়া বীজ। বড় বীজের দাম প্রতিটি ২থেকে সাড়ে ৩টাকা পর্যন্ত। আর গুড়া বীজটি বস্তা হিসেবে ১৮ থেকে ২০হাজার টাকা। এক বস্তায় কমপক্ষে ১ লাখ বীজ পর্যন্ত থাকে। এমদাদ হোসেন নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ কে জানালেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১০ হাজার গ্যালাডিয়ার বীজ রোপন করা যায়। সেখান থেকে কমপক্ষে ৮ হাজার ফুলের স্টিক পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, একবার ফলনের পরে গাছ মরে গেলেও গোড়াতে বীজ থেকে যায়। সেই বীজ মাটি থেকে সংগ্রহ করে ভালোভাবে শুকিয়ে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষন করা হয়ে থাকে। পরের বছর আর বীজ কিনতে হয় না, ঐ সংরক্ষিত বীজ দিয়েই পরের বছর ফুলের চাষ করতে পারেন তারা। তবে কোল্ড স্টোরেজে প্রতি ১ হাজার বীজ সংরক্ষন করলে কমপক্ষে ৯ শ বীজ ভালো পাওয়া যায়। ফলে পরের বছর আর বীজ কিনতে টাকা লাগে না। ফুল চাষী শফিকুল নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ কে জানালেন, ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পরে তিনি পৈত্তিক সম্পত্তিতে ফুল চাষ শুরু করেন। আগে এইসব জমিতে নানা রবিশষ্যের চাষ করা হতো। গ্রামের অন্য ফুল চাষীদের দেখে তিনি অনেকটা শখের বশেই ফুল চাষ শুরু করেন। তবে সেসময় খুব বেশী ফুল চাষী ছিলেন না। গত এক যুগে তিনি ফুল চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। সাবদীসহ আশপাশের গ্রামে ফুল চাষীর সংখ্যা প্রায় ৩ শতাধিক। শষ্য চাষের চেয়ে ফুল চাষ কমপক্ষে ১০ গুন বেশী লাভজনক। প্রতিটি গ্যালাডিয়া কখনও ১০ টাকা দরে বিক্রি হয় আবার বিশেষ বিশেষ দিনে এক একটি স্টিক পাইকারিই ১৬ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হয়। এসব এলাকার ফুল চাষীদের প্রধান বাজার ঢাকার শাহবাগ। যশোর বা মানিকগঞ্জ থেকেও প্রচুর ফুল আসে সেখানে কিন্তু ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এবং ফুলের মান অনেক বেশী ভালো হওয়ায় বন্দরের ফুলের চাহিদা শাহবাগে অনেক বেশী। ডালিয়া চাষী মোছলেউদ্দিন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে ডালিয়ার চাষ করেছেন। ১ হাজার চারা ১০ টাকা দরে ১০ হাজার টাকার চারা রোপন করেছিলেন। গত চার মাসে মজুরী ও সারের খরচ বাবদ আরো ৪০ হাজার টাকা গেলেও এপর্যন্ত তিনি ৯০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন এবং আরো ২০ হাজার টাকার ফুল জমিতে রয়েছে। ফুল চাষীরা নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ কে জানালেন, ফুল চাষে প্রধান সমস্যা এক ধরনের ভাইরাস। এছাড়া তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা পান না তারা। তারা জানান, ব্লক সুপারভাইজাররা শুধুমাত্র বিভিন্ন রবিশষ্য ও ধানচাষীদের সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদের প্রতি তেমন কোন খেয়ালই করেন না তারা। এদিকে বিশাল কাঠবেলীর বাগান রয়েছে এসব গ্রামে। কয়েক কিলোমিটার সরকারী রাস্তার দুপাশেই রয়েছে সারি সারি কাঠবেলীর বন। এসব কাঠবেলীর মালাই স্থানীয় ভাষায় লহর বা গাজরার মালা হিসেবে বিক্রি হয়। এছাড়াও বর্ষাকালে এলমন্ডা, রক্ত জবা, গোলাপ, ঝুমকা, চায়না কাঠ মালতী, বেলী ফুলের চাষ করা হয়। জানা গেছে, সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই গাজরা বিক্রি হয়। এসব কাঠবেলী সংগ্রহ এবং মালা তৈরীর মূল কাজটি করেন শত শত মহিলারা। ফলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা এমরান হোসেন নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ কে জানান, ফুল চাষের উপর তাদের কোন প্রজেক্ট নেই। কি পরিমান জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে সে ব্যাপারে কোন সঠিক ধারণা দিতে পারেনি তিনি।

About the author

SOFT PRO IT

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   4   =