নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ (ডেস্ক রির্পোট) : সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে না আসলে সেটা আপনাদরে বিষয়। কিন্তু নির্বাচনে বাধা দিতে আসবেন? আমরা জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করব। নির্বাচনে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে সরকার পতনের একদফা দাবিতে দেশব্যাপী বিএনপির পদযাত্রার মধ্যে আওয়ামী লীগও শোভাযাত্রা করছে। ১৯ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই কর্মসূচি পালনের পর বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ শোভাযাত্রা করে। সমাবেশে পর মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত শোভাযাত্রা করে দলটি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে নিজের পক্ষে বক্তব্য না আসায় বিএনপির মাথায় খারাপ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মানুষের শক্তি যখন কমে, তখন তার মুখের বিষ বেড়ে যায়। ফখরুলের গলা নষ্ট, কিন্তু গাল থেকে বের হয়েছে যত গালিগালাজ। যত বিশ্রি কথা বিএনপি নেতারা বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে পর্যন্ত সম্মান দিতে জানে না। একটু মানসম্মান নিয়ে কথা বলে না। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তাদের আশা পূরণ হয়নি। এখন সব দোষ শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করতে হবে, এটাই তাদের জ্বালা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “নির্বাচনে হেরে যাবে, এই কথা ভাবতেই তাদের মন খারাপ। সেজন্য পদযাত্রা করতে গিয়ে বাংলা কলেজে হামলা করে, পদযাত্রা করতে গিয়ে খাগড়াছড়িতে হামলা করে, পদযাত্রা করতে গিয়ে স্কুলের ছাত্রীদের বগুড়ায় হামলা করে। আজকে ককটেল মারে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দলের সফর থেকে বিএনপি যে প্রত্যাশা করেছিল, তা না পেয়ে দলটির নেতাদের ‘চোখ, মুখ আর গলা শুকিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন কাদের।
তিনি বলেন, আমেরিকা বলে দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। বিএনপি চেয়েছিল হাসিনা ছাড়া নির্বাচন, আমেরিকা বলে গেছে কাউকে ছাড়া কোনো কিছু নয়, বাংলাদেশের নিয়ম-সংবিধান, অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধানের নিয়ম ইউরোপও বলেছে, আমেরিকাও বলেছে। বিএনপিকে ভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, না হয় মান-সম্মান থাকবে না। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের মান-সম্মান রাখবে না। গতবার তো পেয়েছে ৭টা, এবার অবস্থা কী হবে, আল্লাহই জানে? বিএনপির সব দাবি ভুয়া বলে মন্তব্য করে কাদের বলেন, “একবার বলে ২৭ দফা, আবার বলে ১০ দফা, এখন আবার বলে এক দফা। এক দফা এক দাবি, ভুয়া।
দলীয় নেতা-কর্মীদের মাথা গরম না করার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনারা মাথা গরম করবেন না। যেহেতু ওরা এখন পায়ে পা রেখে ঝগড়া করতে চায়। আপনারা এসব করবেন না। আমরা জেতা পার্টি। আমরা কেন গোলমাল করব? আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই, শান্তি যত থাকবে আমাদের ভোট তত বাড়বে। জনগণের শক্তি একদিকে, আরেকদিকে সন্ত্রাস আর অস্ত্র। রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিরোধ করতে হবে এদের, প্রতিহত করতে হবে এদের।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সদ্য ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে জয়ী মোহাম্মদ এ আরাফাত, মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা শবনম জাহান শিলা বক্তব্য দেন।
সুত্র : বিডি নিউজ।

