নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( ডেস্ক রিপোর্টার ) : দীর্ঘ দিন পড়ে ফেরি পাড়াপাড় এর অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। ২৬ জুন রবিবার ভোর ৬টা থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এতে করে দক্ষিন অঞ্চলে ২১ জেলার মানুষ অনেক উৎফুল্ল আনন্দ বিরাজ করছে তাদের মাঝে তার সাথে তারা জননেত্রী শেখ হাসিনা কে পদ্মা সেতু করায় ধন্যবাদ জানাতে ভুলে যাননি। তারা বলেন, এ-ই পদ্মা সেতু আমাদের জীবনের জীবিকার কাজ ও যোগাযোগ অনেক সহজ করে দিয়েছে মানুষ আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদে বাড়ি আসা যাওয়া পথে যেভাবে লঞ্চ/ফেরী দুর্ঘটনা ঘটে তা ছাড়া অনেক সমস্যা পোহাতে হয় পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এখন আমাদের এরকম দুর্ঘটনা পোহাতে হবে না। আগে ফেরী দিয়ে পাড়াপাড় হতে সময় লাগতো ৭/৮ ঘন্টা এখন পদ্মা সেতু দিয়ে সময় লাগবে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টা তা ছাড়া ও তাই তারা মনে করে এখন থেকে কোনো রকম সমস্যা হবে না যে কোনো মূহুর্তে পরিবারে স্বজন দের কাছে চলে আসা যাবে।
এদিকে, যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২ প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে যায়। সবকয়টি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত টোল দিয়ে থ্রি হুইলার ছাড়া যেকোনো গাড়ি পার হতে পারছে পদ্মা সেতু দিয়ে।
এর আগে ২৫ জুন শনিবার পদ্মার মাওয়া প্রান্তে সকাল ১০টায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা। সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল পরিশোধ শেষে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২-এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।
এরপর জনসভায় যোগদান শেষে জাজিরা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-২-তে যান। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে আসেন।
তথ্যমতে, বাংলাদেশের বুকে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোর নাম পদ্মা সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতুটি ঢাকা বিভাগের দুই জেলা মুন্সীগঞ্জ আর শরীয়তপুরকে সংযুক্ত করেছে। সেতুর ডাঙার অংশ যোগ করলে মোট দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটারের বেশি। স্টিল আর কংক্রিটের তৈরি দ্বিতল সেতুর ওপরের স্তরে রয়েছে চার লেনের সড়ক আর নিচে একক রেলপথ।
বিশ্বের খরস্রোতা নদীর তালিকায় আমাজনের পরেই পদ্মার অবস্থান। এমন খরস্রোতা নদীর ওপর বিশ্বে সেতু হয়েছে মাত্র একটি। তাই সেতুকে টেকসই করতে নির্মাণের সময় বিশেষ প্রযুক্তির পাশাপাশি উচ্চমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। পদ্মা সেতুর পিলার সংখ্যা ৪২ আর স্প্যান ৪১টি। খুটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়। অর্থাৎ প্রায় ৪০তলা ভবনের উচ্চতার গভীরে পাইল নিয়ে যেতে হয়। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীর পাইলিং হয়নি।
পদ্মা সেতুতে রয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। সাধারণ আলোক সুবিধার পাশাপাশি সেতুতে রয়েছে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনে রয়েছে আর্কিটেকচার লাইটিং। স্বাভাবিক সময়ে নদীর পানি থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাত ফুট। এর নিচ দিয়ে পাঁচ তলা উচ্চতার নৌযান চলাচল করতে পারবে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করবে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

