নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) : আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাকির হোসেন বলেছেন, বিগত দিন যখন আমাদের চার আসনের এমপি শামীম ওসমান সাহেব বললেন আমাকে নির্বাচন করার জন্য, তখন আমি বললাম আমার সাথে তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আপনার সাথে দেখা হবেনা। কারণ আমি কিন্তু জামা ভিজাইয়া ভিজাইয়া দেখাইতে পারমুনা। যেহেতু ওইটা আমার এলাকা আমি কাজ করে যাবো।
অনুষ্ঠানে আমাদের মাঝে উপস্থিত সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী সাহেব। ৯৬ সালে এমপি ছিলেন, তখন তিনি স্বঘোষিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওনার বিরুদ্ধে নির্বাচন করার জন্য শামীম ভাই আমাকে ডেকে নিলো। জাকির ভাই আপনি আমার নির্বাচন করেন। ওনার বিরুদ্ধে নির্বাচন করলাম, আর এখন আমি হলাম রাজাকার, আর যারা এখন ওসমান পরিবারের সাথে যোগ দিয়েছেন তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। সোমবার (৫ নভেম্বর) বিকালে কুড়েরপাড় শেখ রাসেল আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শেখ রাসেল কুড়েঁরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মতিউর রহমান মতির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডার আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, এমপির সহধর্মিনী নাসরিন ওসমান, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন, বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম প্রমুখ।
তিনি আরো বলেন, একটি কথা এর আগেও বলেছি এখনো বলি, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের আলীরটেকবাসী অবহেলীত। শুধু দুইবার কাজ হয়েছে। যা একবার গিয়াস সাহেব কিছু করেছিলো আর একজন নাসিম ওসমান সাহেব করেছিলো ওনি মৃত্যুবরণ করার পর আর কোন কাজ হয়নি। আমাদের এমপি সেলিম ওসমান সাহেব অনেক দান করেন। যেহেতু ব্যবসা করি, অনেক ধনি লোকদেরই দেখি। উনি যেভাবে দান করেন আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে আর কেউ নেই। উনি অনেক অনুদান দিয়েছেন। তবে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা এই আলীরটেকের জন্য ১০% উন্নয়ন করে নাই। বর্তমানে তেমন কোন কাজই হয় নাই। এমপি সাহেব ব্যপক বরাদ্ধ দেন কিন্তু কি কাজ হয়েছে তার কাগজ নিয়ে বসেন। ইঞ্জিনিয়াররা কি করে? আমরা আপনার জন্য ভোট চাইতে গেলে কি কথা বলুম। উন্নয়ন করতে হবে।
একপর্যায়ে তার বক্তব্য থামিয়ে ওইসময় মঞ্চে বসেই প্রধান অতিথি এমপি সেলিম ওসমান বলেন, জাকির ভাই একটু মাফ করে দেয়া যায়না! শেখ রাসেল স্কুলের উদ্বোধন, তার উপরে কথা হবে। অতীত নিয়ে কথা নয় ভবিষ্যত নিয়ে বলুন। অন্য কোন কথা নয়। আপনি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে আইসা পড়েন। তার এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতা ও শিক্ষার্থীরা করতালি দিয়ে ব্যপক সাড়া দেয়। কিন্তু জাকির হোসেন সাংসদকে সম্মান দিয়ে তার নির্দেশনা মেনে বক্তব্য শেষ করে দেন। এদিকে ওইসময় জাকির চেয়ারম্যানের বক্তব্য থামাতে মঞ্চে বসা মতি চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, ভাই ভাই ও কি বলতাসে, ওরে থামান। এরপর এমপি সেলিম ওসমান কথা বলতে নিষেধ করে শুধু স্কুল নিয়ে কথা বলতে বলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ডা. শফিউদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু, সমাজসেবক এসবি শাহীন সরকার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আলী আকবর, স্কুলের সদস্য আব্দুল মান্নান ভেন্ডার, আওলাদ হোসেন,ইউপি মেম্বার রওশন আলী,রুহুল আমিন,ইকবাল মাহমুদ,মহিলা মেম্বার সুমা আক্তার, রওশন আরা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহীন রাজু,রবি মেম্বার,সোবহান মিয়া,সিরাজুল ইসলাম সিরু,মাসুদ আহম্মেদ,মাসুম আহম্মেদ,আলোকিত বক্তাবলীর সভাপতি সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা,সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

