নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ঘটনা সম্পর্কে সারাদেশের মানুষ অবগত আছেন অথচ এর কোনো সুষ্ঠ সুরাহা সরকার করছে না। উপরন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাবি শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ন্যায্য আন্দোলনে বর্বরোচিতভাবে হামলা করা হয়েছে। গত ৫ নভেম্বর আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, অধ্যাপক জামালুদ্দীন, অধ্যাপক রায়হান রাইনসহ প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষক আহত হয়েছেন। এক নারী শিক্ষার্থীর পেটে লাথি দেয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের জন্য দুই মাস থেকে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে। আমরা জাবি শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য আন্দোলনের সাথে আবারো অকুণ্ঠ সমর্থন জানাচ্ছি।
অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিচার দাবি করে ৬ নভেম্বর বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ মহানগর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশন মহানগর কমিটি আহ্বায়ক ফারহানা মুনা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাকবির হোসেন সহ নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির থাবা আজকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও গ্রাস করেছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতির ঘটনা ঘটে চলেছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও পদধারী প্রশাসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাঙ্গন সর্বত্র অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সরকারদলীয় ও সরকার সমর্থিত ব্যক্তিবর্গই জড়িত থাকছে। ফলে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান সরকার দেশে একটা লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমতাবস্থায় ইতিহাসের সবচে ভয়াবহ স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা ছাত্রসমাজের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি। ছাত্রসমাজের বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করা সম্ভব।
সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসক নিজেরা দুর্নীতি করে এবং দুর্নীতিবাজদেরও প্রশ্রয় দেয়, পুষ্টির যোগান দেয়! সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ পেয়েই উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলছে। সন্ত্রাসী হামলাকে গণঅভ্যূত্থান হিসেবে জাহির করে করছে। সুতরাং ছাত্র সমাজকেই প্রশ্ন করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হয় কিভাবে? দেশের সম্পদ পাচারকারী, ব্যাংক লুটকারী, হত্যাকারীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায় কিভাবে?
অবিলম্বে জাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ, নির্লজ্জ উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামকে অপসারণ করতে হবে। চাঁদা প্রদান ও চাঁদা গ্রহণের সাথে জড়িতদের আইনত বিচার করতে হবে।

