সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

মালিক শ্রমিক ভাই ভাই, স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার চাই

narayanganjbarta24.com
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : পহেলা মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রতিবেদন মো: সেলিম মিয়া, এসআই, নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ।

আমরা সবাই শ্রমিক,
আমাদের এই সোনার বাংলাতে।
নইলে মোরা শ্রমিকদের সঙ্গে, মিশবো কিভাবে।
মালিক শ্রমিক ভাই ভাই,
স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার চাই।
সকল শ্রেণী ও পেশা মানুষদের অঙ্গীকার,
গর্জে উঠুক, এই শ্লোগান বার বার।

শ্রমিক দিবস ১লা মে ২০১৭ উপলক্ষ্যে নানা সমস্যায় জর্জরিত আমার প্রাণ প্রিয় শ্রমিক ভাইদের প্রতি সুনজর রাখিবার জন্য সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সকল বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ করিয়া আমাদের বাংলাদেশী তথা বহিঃর্বিশ্বের সকল শ্রমিক ভাইদের উদ্দেশ্যে সমাজের বাস্তব চলমান কিছু ঘটনা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করিলাম।

উচুতলার বিলাশ বহুল জীবন-যাপনকারী বড়-বড় কর্তা বাবুদের প্রতিনিয়তই শ্রমিকদের উপর নির্ভর করিয়া চলিতে হয়। অথচ শ্রমিকদের বহু পুরোনো দাবী ও আকাংখিত চাওয়া প্রতিদিনের ৮ (আট) ঘন্টা কর্ম পরিধি আজও পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়ায় পরিনত হয় নাই। আমার এক বন্ধু আছেন, যিনি তাহার ২৫ ( পঁচিশ ) বছরের ব্যবসায়ীক জীবনে লক্ষপতি হইতে প্রচলিত আইনের বিধি মানিয়া শতকোটি টাকার মালিক বনে গিয়াছেন। যাহা সম্ভব হইয়াছে শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার সহিত ৮ ( আট ) ঘন্টার পরিবর্তে কদাপি-কদাপি ১৬ ( ষোল ) ঘন্টা কর্মপরিধি বিস্তৃতি করিবার ফলে। হাজার হাজার টাকা বেতন পাইয়া কয়জন শ্রমিক ভাইয়েরা আছেন যে, এই ২৫ ( পঁচিশ ) বছরে লক্ষপতি হইয়াছেন। বরং খোঁজ নিয়া দেখুন অধিকাংশ শ্রমিক ভাইয়েরা দুই বেলা দুমুঠো ভাতের জন্য মৃত্যু অবধী পর্যন্ত কর্ম যুদ্ধ করিয়া যাইতেছেন।

শ্রমিক ভাইয়েরা অন্যায় করিলে মালিকগণ তাৎক্ষনিক শারীরিক নির্যাতন অথবা চাকুরীচ্যুত অথবা মামলা দিয়া হয়রানী করিয়া থাকেন। পক্ষান্তরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা হইতে বঞ্চিত করিয়া কিছু-কিছু মালিক বন্ধুরা সু-কৌশলে টাকার পাহাড় বানানোর নিমিত্ত লিপ্ত রহিয়াছেন। কোন শ্রমিক তাহার ন্যায্য পাওনা আদায়ের অভিযোগ দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাবুদের অনীহা, অনিচ্ছা, অবজ্ঞা ও পরিশেষে মিথ্যা মিমাংসার আশ্বাসের জালে বন্দী হইয়া থাকে তাহাদের সুবিচার। কদাপি-কদাপি আইনের অন্ধতার সুযোগে সাজানো মিথ্যা মামলায়, মিথ্যা সাক্ষী দিয়া মালিক বাবুরা উল্টো শ্রমিকদের বন্দিত্ব জীবন উপহার দেন।

আমাদের বাঙ্গালী জাতির বর্তমানে যাহারা বড়-বড় মালিক, বড়-বড় কর্তা বনে গিয়া বিশাল আধিক্য প্রতিষ্ঠিত সহ অধিক সম্মানের জায়গা দখল করিয়া গর্ববোধ করিতেছেন, তাহারা নিজ নিজ পূর্ব পুরুষদের ৫০-১০০০ বছরের পুরনো ইতিহাস ঘাটা-ঘাটি করিয়া দেখিবেন, আপনাদের বংশীয় শিকড় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় শ্রমিক নয় কৃষক ছিলেন।

আমাদের দেশের সাম্প্রতিক অনেক শ্রমিক ভাইদের সন্তানেরা খোদা প্রদত্ত মেধা শক্তির প্রভাবে উচু উচু পদে মালিক বা বড় কর্তা বাবু হইয়াছেন। কিন্তু ভুলিয়া গিয়াছেন সমাজের সকলের সামনে আপনার পিতা-মাতার পরিচয় দিতে, ভুলিয়া গিয়াছেন পির্তৃতুল্য, মাতৃতুল্য শ্রমিকদের সঙ্গে ভালো আচরন, ভালো ব্যবহার ও ভালোবাসা উজাড় করিয়া দেওয়ার। কি আশ্চর্য আমাদের এই আলোর ভিতরে অন্ধকারে হাতছানি।

ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তানী আমল বাঙ্গালী জাতির রক্তের বিনিময়ে রাজত্বের অবসান ঘটাইয়া ১৯৭১ইং সালে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করিয়াছিলেন। শ্রমিক ভাইয়েরা অনুপ্রেরণা পায়াইয়াছিলেন এই বুঝি আমাদের মুক্তি হইল, এই বুঝি আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দিন আসিল। কিন্তু না কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের কাধে ভর করিয়া, কিছু অর্থলোভী লোক শ্রমিক নেতা সাজিয়া অসাধু ব্যবসায়ীদের ও মালিক কর্তাবাবুদের সহিত যোগ-সাজস করিয়া বিভিন্ন কল-কারখানা প্রতিষ্ঠান, মোটরযান, নৌযান ইত্যাদি সংস্থা হইতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়া অবিরাম শ্রমিকদের ঠকানো শুরু করিতে থাকিলেন। যাহা অদ্যবদি কোন-কোন ক্ষেত্রে চলমান রহিয়াছে।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় শ্রমিক ভাইয়েরা কোন-কোন ক্ষেত্রে ন্যায্য পাওনাদি ও সুবিচার সঠিক ভাবে পাইলেও কুট-কৌশলী ও সাদা বর্নের অপরাধীদের ক্ষমতার সিন্ডিকেটের দাপটে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের সহজ সরল, অর্ধ-শিক্ষিত ও অশিক্ষিত নানা প্রকারের এই শ্রমিক সমাজ বঞ্চিত হইতেছেন।

যেই শ্রমিক ভইয়েরা একদিন কাজ না করিলে বড় বাবুদের হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা লোকসান হয়, সেই শ্রমিকদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরানো অর্থ ঠকাইয়া মধ্যসত্বভোগী অলস বাবুরা কোনো-কোনো মালিকগণও বিলাশ বহুল পাঁচতারা হোটেলে, গেষ্টহাউজে, মদ্যপ বারে, বাগান বাড়ীতে অনৈতিক কর্মকান্ড সহ আনন্দ-ফূর্তি করিয়া টাকা-পয়সা অপচয় করিয়া থাকেন। এহেন অপচয় রোধ করিয়া যদি শ্রমিক ভাইদের ন্যায্য পাওনা, খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার পিছনে কিছুটা মাণবিক সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দিতেন, তাহা হইলে হয়তোবা এই অপচয়কারী মালিকদের পায়ে সালাম করিয়া শ্রমিক ভাইয়েরা সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রাণ ভরিয়া দোয়া করিতেন।

সকল ভেদাভেদ ভূলিয়া যাইয়া শ্রমিক দিবস ১লা মে ২০১৭ হইতে মালিক শ্রমিক এক হইয়া বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়িয়া তুলিবার চেষ্টা সহ শ্রমিক ভাইদেরকে করুনা নয় বরঞ্চ তাহাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করিবার বিষয়ে একমত পোষন এবং শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর পূর্বেই পাওনা মুজুরি পরিশোধ করিয়া দেওয়ার অনুরোধ ব্যাক্ত করিলাম।

বিঃ দ্রঃ- সব মালিকগণ যেমন অসাধু বা রক্তচোষা প্রানী নয়। আবার সব শ্রমিকও তেমনি অসাধু ও ফাঁকিবাজ নয়। মালিক পক্ষের সমীপে আকুল আবেদন, শ্রমিক ভাইদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখিয়া তাহাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ সহ বিপদে-আপদে যথাসাধ্য অনুযায়ী মাণবিক সাহায্য প্রদান করিবেন। পক্ষান্তরে শ্রমিক ভাইদের প্রতিও অনুরোধ, মালিক পক্ষ যাহাতে লোকসানে পতীত না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখিয়া শ্রমিক সেবা প্রদান করিবেন। এই হউক আমাদের মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষের ব্রত।

জয় বাংলা। জয় হোক মেহনতি মানুষের। জয় হোক শ্রমিক দিবস-২০১৭।

( আমার লেখায় কেউ যদি কষ্ট পাইয়া থাকেন, তাহা হইলে নিজগুনে ক্ষমা করিয়া দেওয়ার অনুরোধ পূর্বক মালিক শ্রমিক ভাই ভাই এই স্লোগান সামনে রাখিয়া সকলের মঙ্গল কামনায় শেষ করিলাম )।

সর্বদলীয় শ্রমিক ভাইদের পক্ষে
মোঃ সেলিম মিয়া
মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।

About the author

SOFT PRO IT