সংগঠন সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

নারী নির্যাতন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে না.গঞ্জে মানববন্ধন

নারী নির্যাতন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে না.গঞ্জে মানববন্ধন
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী নির্যাতন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ই ফেব্রুয়ারি বুধবার বেলা সাড়ে ৩ টায় নারায়ণগঞ্জের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ খায়রুল আলম এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনকালে এসময় উপস্থিত ছিলেন, মো. রাশেদুজ্জামান মহাসচিব বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশনের নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার  আহŸায়ক সামিউল কুদ্দুছ শেখ, নারায়ণগঞ্জ থানার আহবায়ক হাজী নাজমুল হাসান বারেক সহ সংগঠনের সদস্যরা ।

সভাপতি বক্তব্যে শেখ খায়রুল আলম বলেন, আজ ৩ ফেব্রুয়ারি পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রথম পুরুষ নির্যাতনের প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছিল।  আজও একই প্রতিবাদে যখন দাঁড়িয়েছি ততদিনের পুরুষ নির্যাতন অনেক বেড়ে গেছে। নারী নির্যাতন মামলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে দুষ্ঠু প্রকৃতির নারীরা। পরিকীয়ায় আসক্ত ও অবাধ্য স্ত্রীকে শাসন করতে গেলেই স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দিচ্ছে। মামলায় স্বাক্ষী দেওয়া হচ্ছে বাদীর অর্থাৎ স্ত্রীর নিকটাত্মীয়। বর্তমানে নারী নির্যাতন মামলায় জুডিশিয়াল তদন্ত দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার অফিসে সাক্ষীদেরকে ডেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দিচ্ছে। বাদীর নিকটাত্মীয়রা স্বাক্ষী  থাকায় স্বাক্ষীরা স্বাক্ষ্য প্রদান করে আসামী নির্যাতন করেছে। স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। স্বামী জানতেই পারে না তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়ার পর সে জানতে পারে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্বামী-স্ত্রী বিয়ের দাওয়াত খেতে যাচ্ছে। পুলিশ রাস্তায় স্বামীকে গ্রেফতার করেছে স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায়। নারী নির্যাতন মামলা জামিন অযোগ্য। এক ভদ্রলোক লন্ডন থাকেন অথচ তার বিরুদ্ধে দেশে নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি দেশের বিবেকবান মানুষের কাছে প্রশ্ন রাখছি কয়েক হাজার কিলোমিটার দূর থেকে স্ত্রীকে কীভাবে নির্যাতন করল ? এখানেই শেষ নয়। আপোষ না হলে নারী নির্যাতন মামলায় জামিন হয় না। বাধ্য হয়েই বাদীর অন্যায় আবদারের কাছে আপোষ করতে হয়।  আপোষ না হলে স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামীর সাজা হয়ে যায়। আসামী নিজেকে নির্দোষ  প্রমান করার সুযোগ থাকে না কারণ স্বাক্ষী থাকে বাদীর নিকটাত্মীয়। স্বাক্ষীদের সবকিছু মুখস্ত করিয়ে দেয়া হয়। তাই দাবী জানাচ্ছি নারী নির্যাতন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। অপরাধীর সাজা হউক তা আমরাও চাই কিন্তু নিরপরাধ মানুষ যাতে সাজা না পায়। নারী নির্যাতন মামলার তদন্ত সরজমিনে করতে হবে। বাদী এবং আসামী উভয়ের বক্তব্য শুনতে হবে। স্ত্রীর বাপের বাড়ীতে নির্যাতনের ঘটনার স্থান হলে হবে না। নির্যাতনের ঘটনার স্থান হবে শশুর বাড়ীতে। স্বাক্ষী হতে হবে প্রতিবেশীরা। স্বামীর বাড়ী নারায়ণগঞ্জে এবং স্ত্রীর বাপের বাড়ী বগুড়ায়। বগুড়ায় গিয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করেছে। স্বাক্ষী ৫ জন। আমার প্রশ্ন হলো একজন ব্যক্তি পাঁচজন মানুষের সামনে স্ত্রীকে নির্যাতন করল কীভাবে ? বিএমআরএফ এর ৬নং দাবী সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা যাবে না। বিএমআরএফ এর ৩নং দাবী নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ এই সময়কালটা উভয়ের যৌবনের মূল্যবান সময়। নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রায় দুই মাস যাবৎ মাননীয় বিচারক নাই, তাই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে দাবী জানাচ্ছি, নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মাননীয় বিচারকের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করণের ব্যবস্থা করতে।

About the author

SOFT PRO IT