নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) : নারায়ণগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী জিসা মনি কে (১৪) গুম, ধর্ষণ, হত্যা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জিসা জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে তিন আসামির স্বীকারোক্তি দেওয়ার ঘটনায় ওসি ও এসআইয়ের বিচার এবং তিন আসামির মুক্তি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে সদর উপজেলার চাঁদমারী এলাকায় আদালত প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আসামি আব্দুল্লাহর বাবা আজমত হোসেন বলেন, তাদের মেয়ে জীবিত ফিরে এসে বাসায় আছে। তাহলে আমার ছেলে কেন মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকবে। অবিলম্বে আমার ছেলে সহ তিনজনের মুক্তি চাই। আর রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি নেওয়ায় ওসি ও এসআইয়ের বিচার চাই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় আমরা অবাক হই কিভাবে আমাদের নিরপরাধ সন্তানদের ধরে পুলিশ তাদেরকে নির্যাতন করে হত্যার আসামি বানিয়ে ফেলে। আমরাও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। অপরাধ করে ধরা পড়েছে পুলিশ। আগে শুনতাম রিমান্ডে মারধর করে পুলিশ নাকি সত্য বের করে। এখন এমনি সত্য বের করেছে যে হত্যা না করেও হত্যাকান্ডের গল্প বানিয়েছে।
আব্দুল্লাহর মা শিউলী বেগম বলেন, এ ঘটনায় বিচার না হলে আমার মত মায়ের সন্তানদের দিয়ে আবারো এমন কাজ করাবে পুলিশ। আমার সন্তান এখনো বিনা অপরাধে কারাগারে রয়েছে। তার কোন দোষ না থাকার পরেও কেন সে কারাগারে থাকবে। দ্রুত তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হোক।
আসামি খলিলুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ঘরে যে কি অবস্থা চলছে আমার বুঝাতে পারবোনা। আমার পরিবারে অন্ধকার নামিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আমার স্বামী ছাড়া কোন আয় নাই আমার। সন্তান নিয়ে এত কষ্টে আছি দেখার কেউ নেই। এখনো স্বামী কারাগারে, কবে মুক্তি পাবে তাও জানিনা অথচ সে কোন অপরাধ করেনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল্লাহর মা শিউলী বেগম, আসামি খলিলুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার, স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান, শহিদ ইসলাম, কাউসার মিয়া সহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী।

