সদ্যপ্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ

ঘাতক বাস চালকের স্বীকারোক্তি : ইচ্ছে করেই শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই

ঘাতক বাস চালকের স্বীকারোক্তি : ইচ্ছে করেই শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ( ডেস্ক রিপোর্ট ) : রাজধানীর বিমান বন্দর সড়কে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের ইচ্ছাকৃত ভাবে বাস চাপা দিয়েছেন বলে আদালতে স্বীকার করেছেন জাবালে নূর পরিবহনের সেই বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ। এতে ঘটনাস্থলেই ঐ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব নিহত হন, আহত হন আরও ১৩ জন।

৮ আগস্ট  বুধবার ঢাকা মহানগরের হাকিম গোলাম নবীর আদালত বাস চালক মাসুম বিল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দী দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ।

আদালতে মাসুম বিল্লাহ বলেন, বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় আগে যাত্রী উঠানোর জন্য তিন টি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিলাম। ছাত্ররা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় ইচ্ছে করে ওদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।

 তিনি আরও বলেন, জাবালে নূর বাসের (যার রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চালক আমি। গত ২৯শে জুলাই জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৪-১৫ জন শিক্ষার্থীদের ওপর ইচ্ছাকৃত ভাবে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে তাদের গুরুতর জখম করি। তারপর গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যাই। আমার গাড়ির আঘাতেই রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই জন মিম ও রাজিব নিহত হয়। আহত হয় ১০/১২ জনের মতো।

সাত দিনের রিমান্ড শেষে বাস চালককে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এর আগে গত ১ আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম এই মামলায় মাসুম বিল্লাহকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

বর্তমানে জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন রিমান্ডে আছেন। তাছাড়াও এ পরিবহনের অপর দুই বাস চালক সোহাগ আলী ও জুবায়ের এবং হেলপার এনায়েত হোসেন ও রিপন রিমান্ডে আছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম।

এর আগে মাসুম বিল্লাহকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের কাছেও এ কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেই বিমানবন্দর সড়কে শিক্ষার্থীদের ওপর বাস উঠিয়ে দেই।

প্রসঙ্গত, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রাণহানির ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ ইচ্ছাকৃত ছিল তদন্তে তা প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী চালকের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। এ আইন অনুযায়ী বিচার হলে চালক মাসুম বিল্লাহর মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা, কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটান।

About the author

SOFT PRO IT