সংবাদ শিরোনাম সর্বশেষ সংবাদ

কমেছে আম্ফানের শক্তি, বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রম করবে বুধবার

আসছে ঘুর্ণিঝড় আমফান
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ : ঘণ্টায় গড়ে ২০ কিলোমিটার গতিতে উপকূলের দিকে এগোতে থাকা সুপার সাইক্লোন আম্ফানের শক্তি কিছুটা কমেছে; ঘূর্ণিবায়ু বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে খুলনা চট্টগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে আম্ফান। আর ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা বলছেন পশ্চিমবঙ্গের দীঘা এবং বাংলাদেশের হাতিয়ার মাঝামাঝি সুন্দরবন আশপাশের এলাকার কথা।

আগের তুলনায় শক্তি সামান্য কমলেও বিপুল ধ্বংস ঘটানোর সামর্থ্য রাখে ঝড়। উপকূল অতিক্রম করার সময় এর বাতাসের শক্তি থাকতে পারে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বা তারও বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এখনও আমরা বন্দরগুলোকে বিপদ সংকেত দেখাতে বলছি। বুধবার মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হবে।

আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত আম্পান উত্তরউত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার বেলা ৩টায় ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে; মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণদক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণদক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

আম্পানের গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে আবহওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, সাইক্লোনটি এখন ঘণ্টায় ১৮২০ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। বুধবার দুপুরের পর থেকে বাংলাদেশ উপকূলে প্রভাব শুরু হবে। সন্ধ্যা থেকে রাতভর ঝড়ের প্রভাব থাকবে উপকূল জুড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় আগের মতই মোংলা পায়রা সমুদ্রবন্দরকে নম্বর এবং চট্টগ্রাম কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর অদূরবর্তী দ্বীপ চরগুলো নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আর উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম কক্সবাজার এবং অদূরবর্তী দ্বীপ চরগুলো নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, ২২ মে অমাবস্যা থাকায় এর প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে জোয়ার। ঘূর্ণিঝড় অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং আশপাশের দ্বীপ চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

About the author

SOFT PRO IT