জাতীয় রাজনীতি সদ্যপ্রাপ্ত

ওটা আগে ঘুরুক, পৃথিবী পরিক্রমা করুক তারপর দেখা যাবে : ফখরুল

দুর্ভাগ্য যে, সরকার এটা করছে না : মির্জা ফখরুল
Written by SOFT PRO IT

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( ডেস্ক রিপোর্ট ) : মহাকাশে সদ্য উৎক্ষেপণ করা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট-এর মালিকানা দুই ব্যক্তির কাছে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ওটা আগে ঘুরুক, পৃথিবী পরিক্রমা করুক তারপর দেখা যাবে।

শনিবার দুপুরে (১২ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুন:প্রতিষ্ঠা, বেগম খালেদা জিয়ারর সুচিকিৎসা-নির:শর্ত মুক্তি এবং ডা. শামীউল আলম সুহানের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি আরো বলেন, যাই হোক এটারও মালিকানা চলে গেছে জানেন তো। স্যাটেলাইটের মালিকানাও চলে গেছে দুজন লোকের হাতে এবং সেখান থেকে আপনাকেও কিনে নিতে হবে। চুক্তি হচ্ছে অনেক। এই চুক্তি করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? আপনারতো পার্লামেন্টই নেই। পার্লামেন্টই তো নির্বাচিত নয়। যে চুক্তিই করেন না কেনো আপনি, সেই চুক্তি তো জনগণের চুক্তি নয়। আমি এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলবো না। কারণ এ বিষয়টি ভালো করে দেখিনি। আগে দেখি চুক্তিগুলো কি হয়েছে।

তিনি বলেন, যেমন মিয়ানমারের সাথে চুক্তি করেছে। কিন্তু চুক্তি করেও এখন পর্যন্ত কেউ ফিরে যেতে পারেনি। যেটা সবচেয়ে আমার বেশি দরকার তিস্তা চুক্তি হয়নি। জনগণই হচ্ছে এই দেশের মালিক। সেই মালিকদের যে চাহিদা, আশা আকাঙ্ক্ষা তা পূরণ করবার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এই দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আলোচনা করুন, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন, তার সঙ্গে কথা বলুন এবং নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গুন্ডাদের ঠেকানোর জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন, যাতে করে মানুষ নির্ভয়ে নিরাপদে ভোট দিতে যেতে পারে এবং সঠিক রায়টা পাওয়া যায়। এই ব্যাবস্থা গুলো করুন। তাহলে অবশ্যই এই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইবে, মানুষ সস্তি ফিরে পাবে।

মালয়েশিয়ার কাছে থেকে শিক্ষা নেয়ার আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কাছে থেকে আমাদের অনেকগুলো শিক্ষা নেয়ার আছে। আনোয়ার ইব্রাহীম, মাহাথির মোহাম্মাদের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন। এবং তিনিই তার দল থেকে বের করে দেন, জেলে দেন। বিভিন্ন রকম মিথ্যা অপবাদ, মামলা দিয়ে। সেই আনোয়ার ইব্রাহীমের পার্টি, আজকে সবচেয়ে বড় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। এবং মাহাথির মোহাম্মাদকে তারাই নিয়ে এসেছে, যে দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে, যখন দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, বলেছে আপনিই এসে আমাদের নেতৃত্ব দিন। মাহাথির মেনে নিয়েছেন তার শেষ বয়সে এসে। একমত হয়ে নির্বাচন করেছেন, সর্বোচ্চ ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি নির্বাচিত হয়েই দুটি কথা বলেছেন, এক আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না, দুই আমি আনোয়ার ইব্রাহীমকে অতি দ্রুত মুক্তি দিয়ে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবো। এবং বলেছেন তাকে যে সাজা দিয়েছিলাম, আমি ভুল করেছি। ১১ বছর সাজা দিয়েছিলেন, এখনো জেলে আছেন। আজকে সেখান থেকে আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। গোটা মানুষকে এক করতে হবে। এক করে এই ভয়াবহ দানবকে সরাতে আমাদের কাজ করতে হবে। অবশ্যই অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ সকলকে সঙ্গে নিয়েই এই দানবকে সরাতে হবে। মালয়েশিয়াতেও দেখা গেল এই ধরনের ঐক্য না হলে এটা খুব ডিফিকাল্ট। সেজন্য আমাদের জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়েই এদের পরাজিত করতে হবে।

একটা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ধ্বংস হয়ে যায় তখন সেটা আর রাষ্ট্র থাকে না। আজকে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।

সভায় ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সঞ্চালনায় এবং বিএসএমএমইউ এর সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল কুদ্দুস, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া,ঢাবি’র সাদা দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন প্রমুখ।

সূত্র : বিডি মর্নিং

About the author

SOFT PRO IT