খু‌নি‌দের বিচা‌র চে‌য়ে ছেলে হারা মায়ের অঝোরে কান্না

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) :  নারায়ণগঞ্জে বিদেশ ফেরত শুভ হত্যার আসামিদের গ্রেফতার ও ন্যায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ আগস্ট বুধবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এ সময় খুনিদের বিচার চেয়ে ছেলে হারা মা  রওশন আরা বেগম  অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মানববন্ধনের ব্যানারে ছেলের ছবির দিকে ছুটে যান এবং চুমু খেতে খেতে বিলাপ করে কাঁদতে থাকেন সবার সামনে। স্বজনদের হাজার চেষ্টাও শান্ত করতে পারেনি মা রওশন আরা বেগমকে। ১২ দিন আগেও যে ছেলে তার কোলে ছিল সেই ছেলে এখন আর নেই। এ নির্মম সত্যটি যেন তাকে ভিতর থেকে ভেঙ্গে ফেলছে। উত্তেজনা আর বিলাপের এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন রওশন আরা। জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আবার ছেলে শুভর জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পরেন শোকে কাতর মা। ক্ষোভ ও আক্রোশে বারবার বলতে থাকেন, আমি হৃদয়, সুফিয়ানরে মাইরালামু। বলতে বলতে আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাথা থাপরাতে থাকেন। বড় ছেলে তৈমুর আলম রোকন জাপটে ধরেন মা রওশন আরাকে। ছেলের বুকে মাথা রেখে অঝোরে কাদতে থাকেন এই বৃদ্ধা মা।

বক্তারা বলেন, পুলিশের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসা চলে। মাদক ব্যবসা থেকে সৃষ্টি হয়েছে কিশোর গ্যাং। গত ঈদের রাতে নগরীর পাঠানটুলী এলাকায় এক যুবলীগ নেতার বাড়ির সামনে সেই কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয় শুভ। শুভকে ওই সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে, যা যুবলীগ নেতার বাড়ির সিসি ক্যামেরায় পরিষ্কার দেখা যায়। সিসি ক্যামেরায় হত্যাকারীদের ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এখনো সব আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ন্যায় বিচারের দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে, বাবা বশির মিয়া মানববন্ধনের মাইক হাতে ভরা কন্ঠে এমপি, মেয়র সহ সকলের কাছে ছেলে শুভ হত্যার বিচার দাবি জানান। অসহায় পরিবহন শ্রমিক এই পিতা বলেন, আমার ছেলেটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হৃদয় ওকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। পথচারী অনেকেই এটা দেখেছে। হত্যার পরও হৃদয় হাজিগঞ্জ এসে কান্নাকাটি করে। যখন খবর হলো সেও হত্যাকারীদের সাথে ছিল তখন মাঝরাতে পরিবার নিয়ে পালিয়ে যায়। যে নির্মমতার সঙ্গে সুফিয়ান আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তার বিচারের জন্য আমি সকলের সহযোগিতা চাই।

মানববন্ধনে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত শুভর বড় ভাই তৈমুর আলম রোকন, মেঝ ভাই তহিদ আলম শোকন, বোন ইভা, খালা পাপিয়া, রানু সহ এলাকাবাসী ও স্বজনরা।

উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট শনিবার ঈদ-উল আযহার দিন রাত ১০টায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাশ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাজিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা প্রবাস ফেরত আহাদ আলম শুভকে (৩০)। আহাদ আলম শুভ হাজিগঞ্জ এলাকার পরিবহন শ্রমিক বশির মিয়া ও রওশনারা বেগমের ছোট ছেলে। ৯ বছর সে ব্রুনাই ছিল। ১ বছর আগে ছুটিতে দেশে ফিরে। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতির কারণে আর প্রবাসে যেতে পারনেনি। ঈদ-উল আযহার দিন তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বন্ধু হৃদয়সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

add-content

আরও খবর

পঠিত