ফুটপাতে হকার বসার সুযোগ দেওয়া জন্য মেয়রকে সেলিম ওসমানের অনুরোধ

নারায়ণগঞ্জ বার্তা ২৪ ( স্টাফ রিপোর্টার ) :  সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি অনুরোধ রেখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান বলেছেন, আমি মেয়রের কাছে অনুরোধ রাখবো ফুটপাতে যারা হকার আছে তাদেরকে আগামী ঈদ পর্যন্ত ফুটপাতে হকার বসার সুযোগ দেওয়া হোক। কারন কোন মানুষই পারে না কোন মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করতে। তবে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। যাতে করে তারা যত্রতত্র দোকান নিয়ে না বসতে পারে সে বিষয়টা কঠোর ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কারন কখন কি হবে আমরা কেউ জানি না। এমনও হতে পারে পুরো বাংলাদেশকে আগামী দুই মাসের জন্য লকডাউন করে দেওয়া হতে পারে। এটার সম্ভাবনা আছে। এভাবে লকডাউন দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ করোনা নিয়ন্ত্রনে এনেছে। আমাদের দেশেও এমন হতে পারে।

১০ জুলাই শুক্রবার বিকালে সাড়ে ৫ টায় বন্দর খেয়া ঘাট সংলগ্ন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে করোনা মহামারিতে শহীদ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযুদ্ধা যুদ্ধকালীন কমান্ডার আমিনুর রহমান এর স্মরণে আলোচনা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে জেলার সদর, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও উপজেলায় পৃথক পৃথক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত বক্তব্য রাখেন জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মেহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপেজলা নির্বাহীর কর্মকর্তা নাহিদা বারী, সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার নুরুল হুদা সহ দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা দোয়ায় অংশ নিয়েছেন।

মেয়রের প্রতি আহবান রেখে তিনি আরো বলেন, আমাদের এখন অত্যন্ত প্রয়োজন এক টেবিলে আলোচনায় বসা। আমি আমার এলাকা নিয়ে বলবো। সিটি কর্পোরেশনের ৭০ ভাগ আমার এলাকায়। আমার ভোট আর মেয়রের ভোট একই ভোট। জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জের অভিভাবক। উনি মিটিং ডাকবেন আমরা আলোচনায় বসবো। কিভাবে নারায়ণগঞ্জকে ডেঙ্গু থেকে মুক্ত রাখা যায়। এক দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এক দিকে করোনা, এক দিকে ডেঙ্গু আমাদের অবস্থাটা কি হবে। আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করছি, মেয়রকে আহবান রাখছি কোন রাগ না কোন ঝগড়া না। আমাদেরকে বসতে হবে। আপনার আমার জন্য না নারায়ণগঞ্জের মানুষদেরকে বাচানোর জন্য আমাদেরকে বসতে হবে। এমন কোন সমস্যা নাই যেটা টেবিলে বসে আলোচনা করলে সেটার সমাধান হয়না। এটা আমাকে আমিনুল ইসলাম ভাইয়ের দেয়া ফর্মুলা।

সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, আপনারা খুচাখুচি না করে মানুষ বাচানোর জন্য কাজ করেন। মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে আপনারা পত্রিকায় একটি নিদিষ্ট অংশে করোনা ভাইরাস থেকে সাধারণ মানুষকে সুরিক্ষত থাকতে কি করনীয় তা নিয়মিত প্রচার করুন। মানুষকে সচেতন করুন। আপনারা মানুষকে সহযোগীতা করেন। সরকার থেকে যে নির্দেশনা প্রচার করছে সেটিও আপনারা প্রচার করুন। আপনাদেরও নাম আছে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে। পুলিশ করছে, ডাক্তার করছে, সাংবাদিকরা করছে আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও করবো। মানুষকে বাচানোর চেষ্টায় থাকবো।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, আমি সকলের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করছি। উনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। একটার পর একটা হাসপাতাল তৈরি করে দিচ্ছেন। অথচ আমরা ভাল হচ্ছিনা। আমরা দুর্নীতি করেই যাচ্ছি। দুর্নীতি করে টাকা কামিয়ে যাচ্ছি। আমরা হয়তো মনে করছি টাকা থাকলে করোনা থেকে ভাল হয়ে যাবো। আমি সাবধান করে দিতে চাই অন্তত্য নারায়ণগঞ্জে যারা মানুষের ক্ষতি করার জন্য দুর্নীতি করবেন তাদের মুক্তিযোদ্ধারা ছাড় দিবেনা। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখন থেকে দুটি যুদ্ধ করবো। একটা করোনার থেকে মুক্তি পেতে  এবং যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এখন কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবো। কারো পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করবো না।

add-content

আরও খবর

পঠিত